সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা জেলা শিল্পকলা একাডেমির গুণীজন সম্মাননা প্রদান আজ জুলাই শহীদ দিবস পালন সরকার জনগণের সাথে বেইমানি করেছে বর্ণাঢ্য রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল ছাতকের জলাশয়ে মিলছে রাক্ষুসে সাকার মাছ! জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক মেজর ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার

বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল থামাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ চাই

  • আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৯:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৯:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল থামাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ চাই
সুনামগঞ্জে বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে আরো পাঁচটি তাজা প্রাণ। ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও জামালগঞ্জে একদিনে পাঁচজনের মৃত্যু এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনা শুধু শোকাবহ নয়, এটি আমাদের প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা ও অবহেলারও নির্মম প্রতিচ্ছবি। হাওরে ধান কাটার মৌসুমে এমন মৃত্যু এখন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- প্রতিবছর একই সময়ে, প্রায় একই পরিস্থিতিতে, কৃষক, শ্রমিক ও হাওরনির্ভর মানুষ বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন। তারা জীবিকার তাগিদে খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, কিন্তু তাদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়। আগাম আবহাওয়া সতর্কতা, বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা মাঠপর্যায়ে কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট। বজ্রপাতকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি এখন জননিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অথচ এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা, শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশনা, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং, মোবাইল সতর্কবার্তা বা কৃষকদের জন্য অস্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, বজ্রনিরোধক দ- স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। সরকারের উচিত হাওরাঞ্চলকে বজ্রপাত-ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। খোলা হাওরে বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপন, পর্যাপ্ত তালগাছ বা উপযোগী বৃক্ষরোপণ, বজ্রপাত সতর্কীকরণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্যোগ প্রস্তুতিতে আরও সক্রিয় করা জরুরি। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বজ্রপাতে মর্মান্তিক এই প্রাণহানি আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল- প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ে শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে থাকা যায় না। পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রতিরোধই পারে এমন মৃত্যু কমাতে। আর একটি প্রাণও যেন অবহেলায় ঝরে না যায় - এই প্রত্যাশা করি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স