সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল থামাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ চাই

  • আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৯:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৪-২০২৬ ০৯:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল থামাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ চাই
সুনামগঞ্জে বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে আরো পাঁচটি তাজা প্রাণ। ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও জামালগঞ্জে একদিনে পাঁচজনের মৃত্যু এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনা শুধু শোকাবহ নয়, এটি আমাদের প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা ও অবহেলারও নির্মম প্রতিচ্ছবি। হাওরে ধান কাটার মৌসুমে এমন মৃত্যু এখন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- প্রতিবছর একই সময়ে, প্রায় একই পরিস্থিতিতে, কৃষক, শ্রমিক ও হাওরনির্ভর মানুষ বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন। তারা জীবিকার তাগিদে খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, কিন্তু তাদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখনও দৃশ্যমান নয়। আগাম আবহাওয়া সতর্কতা, বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা মাঠপর্যায়ে কার্যকর নিরাপত্তা পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট। বজ্রপাতকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি এখন জননিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অথচ এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা, শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশনা, ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং, মোবাইল সতর্কবার্তা বা কৃষকদের জন্য অস্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, বজ্রনিরোধক দ- স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। সরকারের উচিত হাওরাঞ্চলকে বজ্রপাত-ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। খোলা হাওরে বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপন, পর্যাপ্ত তালগাছ বা উপযোগী বৃক্ষরোপণ, বজ্রপাত সতর্কীকরণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্যোগ প্রস্তুতিতে আরও সক্রিয় করা জরুরি। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বজ্রপাতে মর্মান্তিক এই প্রাণহানি আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল- প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ে শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে থাকা যায় না। পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রতিরোধই পারে এমন মৃত্যু কমাতে। আর একটি প্রাণও যেন অবহেলায় ঝরে না যায় - এই প্রত্যাশা করি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স