স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের কালবৈশাখী ঝড়ে পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও জামালগঞ্জ উপজেলার হাওর এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে এই হতাহত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন ৭ জন। এছাড়া জামালগঞ্জের ভীমখালী ইউনিয়নের চান্দবাড়ি গ্রামের স্কুল মাঠে বজ্রপাতে দুইটি গবাদি পশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বজ্রপাতে নিহতরা হলেন জামালগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামের আমির আলীর ছেলে নূর জামাল (২৫), ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান (২৪), উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৫), দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮) এবং তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম (৩২)।
ধর্মপাশা :
ধর্মপাশা উপজেলার চকিয়াচাপুর গ্রামের উত্তরপাশে থাকা টগার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হাবিবুর রহমান (২৪) নামের এক কৃষক ও বোরো ধান শুকানোর খলায় ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত উল্লাহ (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। হাবিবুর রহমানের বাড়ি উপজেলার বরইহাটি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমানের ছেলে। আর কিশোর রহমত উল্লাহর বাড়ি উপজেলার স্বরস্বতীপুর ইসলামপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়ার ছেলে। এ ছাড়া বজ্রপাতে চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা পৌনে একটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বরইহাটি গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান আটজন শ্রমিক নিয়ে শনিবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার টগার হাওরে থাকা তার আপন চাচা সজলুর রহমানের জমির পাকা ধান কাটতে যান। বেলা পৌনে একটার দিকে ঝড়ো বাতাস, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হয়। এ সময় বজ্রপাতে হাবিবুর রহমান অচেতন হয়ে পড়েন। ধান কাটার শ্রমিকেরা তাকে উপজেলার গাছতলা বাজারে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে যায়। ওইদিন বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে তাঁকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের চকিয়াচাপুর গ্রামের ফজল হকের ছেলে ওমর হোসেন (৩০) ও আব্দুল কাইয়ূম (২২) আহত হন। তারা দুইজন স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। একইদিন উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের স্বরস্বতীপুর ইসলামপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়া (৪০), তার ছেলে কিশোর রহমত উল্লাহ (১৫) ও ভাতিজি সাথী আক্তার (২৪) কে নিয়ে শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিজেদের বাড়ির সামনে থাকা ধানের খলায় ধান শুকাতে যান। বেলা পৌনে একটার দিকে ঝড়ো বাতাস, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। বৃষ্টির পানি থেকে ধান রক্ষার জন্য ত্রিপাল দিয়ে তারা ধান ঢেকে দেওয়ার কাজ করেন। এ সময় বজ্রপাতে কিশোর রহমত উল্লাহ অচেতন হয়ে পড়ে। আর জয়নাল মিয়া ও সাথী আক্তার বজ্রপাতে আহত হন। পরে বিকেল তিনটার দিকে তাদের তিনজনকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বজনেরা নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা রহমত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করে। আহত জয়নাল মিয়া ও সাথী আক্তারকে উন্নত চিকিৎকার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
দিরাই:
দিরাইয়ে বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন লিটন মিয়া। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামালগঞ্জ :
জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে নুর জামাল (২৫) নামে একজন নিহত ও তোফাজ্জল হোসেন নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার পাগনার হাওরের করতোলা নামক স্থানে হ্যান্ডট্রলিতে ধান তোলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর জামাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামের আমির আলীর ছেলে। আহত তোফাজ্জল হোসেন (২২) একই গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে এবং তিনি নিহতের চাচাতো ভাই। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে হাওরে কাটা ধান ট্রলিতে তোলার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে দুইজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর জামালকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত তোফাজ্জল হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, একই সময়ে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের চান্দবাড়ি গ্রামের প্রাথমিক স্কুল মাঠে বজ্রপাতে দুইটি গাভীর মৃত্যু হয়েছে।
তাহিরপুর:
তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাতে আবুল কালাম (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাটিয়ান হাওরে ওই দুই জন হাঁসের খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান এবং আরেকজন গুরুতর আহত হোন। নিহত আবুল কালাম তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু বকরের ছেলে এবং আহত ব্যক্তি নুর মোহাম্মদ (২২) বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের আলী আওয়ালের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাটিয়ান হাওরে আবুল কালাম ও নুর মোহাম্মদ একটি খামারে হাঁস দেখাশোনার কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো শনিবারও হাওরে হাঁস চড়াতে গেলে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের শিকার হোন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল কালামের মৃত্যু হয়। এদিকে গুরুতর আহত নুর মোহাম্মদকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফয়েজ আহমদ নুরী জানান, নুর মোহাম্মদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
বজ্রপাত কেড়ে নিল ৫ প্রাণ
- আপলোড সময় : ১৯-০৪-২০২৬ ০৯:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-০৪-২০২৬ ০৯:১৩:০১ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ