সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল, আসছে বড় পরিবর্তন আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরও ভয়াবহ : জামায়াত আমির হবিপুর-পুরান সিংচাপইড় সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ঘন ঘন লোডশেডিং, ভোগান্তিতে মানুষ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী শহীদ হাফিজ হত্যার বিচার অবশ্যই হবে : এমপি কয়ছর আহমেদ এক মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের প্রতি চীনের আহ্বান হাওরের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান তুমি সব বোঝো মানি, যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন কৃষকেরা : এমপি কয়ছর আহমদ হাওরে ‘নয়া দুর্যোগ’ জলাবদ্ধতা জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার সুনামগঞ্জের নতুন ডিসি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান প্রাণের উচ্ছ্বাসে বর্ষবরণ শিক্ষা ক্ষেত্রেও সিলেটকে এগিয়ে নিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী দ্রোহে-প্রতিবাদে উদীচী’র বর্ষবরণ আসমানে মেঘ দেখলেই কৃষকের মনে শঙ্কা জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে বিদায় সংবর্ধনা রেললাইন, শুল্ক স্টেশনসহ একগুচ্ছ দাবি সংসদে তুলে ধরলেন এমপি নূরুল ইসলাম

হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট মানচিত্রায়ণ কেন জরুরি

  • আপলোড সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ১০:১০:০৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৪-২০২৬ ১০:১০:০৯ পূর্বাহ্ন
হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট মানচিত্রায়ণ কেন জরুরি
ইকবাল জিল্লুল মজিদ:: বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল শুধু ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের আধার নয়। এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষি-অর্থনীতি এবং লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু এ বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও ধানখেতে পরিপূর্ণ অঞ্চলটি বজ্রপাতের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক ঝুঁকির মুখোমুখি। কারণ দেশের বজ্রপাত ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি জেলার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ অন্যতম। বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের (এসএসএটিএএফ) দেয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বজ্রাঘাতে হতাহতদের প্রায় ৫২ দশমিক ৪ শতাংশই হাওর অঞ্চলের মানুষ। প্রতি বছর বিশেষত এপ্রিল-মে মাসে হাওরের কৃষক, জেলে, মাঝি, শ্রমজীবী মানুষ এবং যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন তারা বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান। বজ্রপাতের এ নেতিবাচকতা বিবেচনায় বিষয়টি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে হাওরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, কৃষি সুরক্ষা এবং আবাসন সংকটের বিষয়গুলোও জড়িত। সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগের স্বীকৃতি দিয়েছিল। এরপর আবহাওয়া অধিদপ্তর বজ্রপাতের জন্য আলাদা সতর্কতা চালু করে। এ থেকেই বুঝে নেয়া যায়, বজ্রপাতের ঝুঁকি কতটা। তবে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনুধাবনের জন্য প্রথমে হাওরের ভূপ্রকৃতি বোঝা জরুরি। হাওরাঞ্চল বছরের বড় একটি সময় জলমগ্ন থাকে। আর শুকনো মৌসুমে তা বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে রূপ নেয়। এ খোলা প্রান্তরেই উঁচু ভবন, নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র, ইমারত অথবা পর্যাপ্ত সুরক্ষিত অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ ফাঁকা অংশে বজ্রপাত ভূমিতে আঘাত হানে। এসব স্থানেই মানুষের মৃত্যু হয় বেশি। হাওরাঞ্চলে কৃষকেরা দিনের বড় একটি সময় ধান চারা রোপণ বা আহরণের ব্যস্ত থাকেন। বিশাল খেতের আশপাশে নিরাপদ আশ্রয়ের ভীষণ অভাব। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঠে দাঁড়িয়ে তারা কার্যত বজ্রঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন। হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর পরিসংখ্যান অনেক উদ্বেগজনক। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০-২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রাঘাতে ৩ হাজার ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ বছরে গড়ে ১১৪ জন মারা গেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ হার আরো বেড়েছে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন। ভিন্ন এক গবেষণা ও নীতি-আলোচনায় দেখা যায়, ২০১০ সালের পর থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর প্রবণতা তীব্রতর হয়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও রাইমস সংশ্লিষ্ট সেমিনারে জানানো হয়, দেশে বছরে গড়ে প্রায় ৩৩ লাখ ৬০ হাজার বজ্রপাত ঘটে এবং এতে প্রায় ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়। বজ্রপাত এখন বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ধারাবাহিক ও পূর্বানুমেয় প্রাণঘাতী বিপদ। বজ্রপাতে হাওরাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির চরিত্রও আলাদা। এখানে মৃত্যু শুধু ব্যক্তিনির্ভর ট্র্যাজেডি নয়; একটি মৃত্যু মানে একটি কৃষক পরিবারে আয়হানি, ঋণঝুঁকি, খাদ্যঘাটতি, শিশুদের শিক্ষাবিচ্ছিন্নতা এবং বহু ক্ষেত্রে পরিবারপ্রধান হারানোর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক অভিঘাত। বজ্রপাতের শিকার অনেকেই পুরুষ কৃষিশ্রমিক হওয়ায় পরিবারগুলো হঠাৎ করে অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষিজমি, কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠী ও বজ্রপাতের ঘনত্ব এ তিনটি উপাদানের সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ যেখানে কৃষিনির্ভরতা বেশি, সেখানে বজ্রপাতের মানবিক মূল্যও বেশি। হাওরাঞ্চল এ সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দু। কোন কোন এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এ প্রশ্নের উত্তরেও হাওরই সামনে আসে। একাধিক গবেষণায় সুনামগঞ্জকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার মধ্যে প্রথম সারিতে দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে সুনামগঞ্জ জেলা দেশে বজ্রপাতজনিত হতাহতের ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল। পুরনো গবেষণাগুলোয়ও সুনামগঞ্জকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেখানো হয়েছে; পাশাপাশি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের উচ্চ ঝুঁকির কথা এসেছে। মাঠ পর্যায়ের সংবাদও একই ছবি দেয়: সুনামগঞ্জের দিরাই, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতকসহ হাওরঘেঁষা এলাকাগুলোয় ধান কাটার সময় বহু মৃত্যুর ঘটনা বারবার সংবাদ হয়েছে। ২০২৩ সালে শুধু সুনামগঞ্জেই ধান কাটার সময় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক কৃষকের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হয়; ২০২৪ সালেও দিরাইয়ে কৃষক মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। বজ্রপাত বিষয়ে বেশকিছু ভ্রান্ত ধারণাও আছে। এখনো অনেকে এটিকে ‘আল্লাহর গজব’, ‘দুর্ভাগ্য’ হিসেবে দেখি। কিন্তু আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এটি একটি মিটিগেবল রিস্ক, অর্থাৎ যার ক্ষতি পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেকাংশে কমানো সম্ভব। হাওরাঞ্চলে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা কেন জরুরি এর উত্তর তাই বহুস্তরীয়। প্রথমত, খোলা মাঠে স্থায়ী বা অর্ধস্থায়ী লাইটনিং সেফ শেল্টার না থাকলে মানুষ পালানোর সুযোগ পায় না। দ্বিতীয়ত, বসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, মসজিদ, ঘাট ও আশ্রয় পয়েন্টে মানসম্মত লাইটনিং প্রোটেকশন সিস্টেম - যেমন এয়ার টার্মিনাল/রড, সঠিক গ্রাউন্ডিং, সার্জ প্রোটেকশন ইত্যাদি না থাকলে ভবনের ভেতরেও ঝুঁকি থেকে যায়। তৃতীয়ত, আগাম সতর্কতা মাঠ পর্যায়ে না পৌঁছলে আবহাওয়া বার্তা শহরে সীমাবদ্ধ থেকে যায়, কৃষক উপকৃত হন না। বাস্তবে আশ্রয় কেন্দ্র যে কার্যকর হতে পারে, তার উদাহরণও আছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পঞ্চাউনিয়া হাওরে বজ্রনিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে কৃষক ও জেলেরা ঝড়-বজ্রপাতের সময় দ্রুত আশ্রয় নিতে পারেন। এটি প্রমাণ করে প্রযুক্তিগত সমাধান কাগজে-কলমে আটকে থাকার কথা নয়। সঠিক পরিকল্পনা নিলে হাওরবাসীর জীবনরক্ষায় তা বাস্তব ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কিছু প্রকল্প দিয়ে এ বিপুল ঝুঁকি মোকাবেলা সম্ভব নয়; প্রয়োজন নেটওয়ার্কভিত্তিক, জোনভিত্তিক, বিজ্ঞানসম্মত কাঠামো। সরকারের দায়িত্ব এখানে অত্যন্ত ¯পষ্ট। প্রথম দায়িত্ব হলো ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট মানচিত্রায়ণ। কোন ইউনিয়ন, কোন বিল, কোন ফসলি ব্লক, কোন নৌপথ, কোন ঘাট ও কোন স্কুল বেশি ঝুঁকিতে এসব জেলা নয়, উপজেলা নয়, মাইক্রো-লেভেলে চিহ্নিত করতে হবে। দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো হাওরকেন্দ্রিক অবকাঠামো বিনিয়োগ। বহু বছর আগে ২৩টি জেলায়, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে বজ্রনিরোধী কংক্রিট আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল; কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি কতদূর, সে প্রশ্নের জবাব মাঠেই মিলতে হবে। পরিকল্পনা ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন অনেক বেশি জরুরি। তৃতীয় দায়িত্ব হলো কমিউনিটিভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করা। শুধু ওয়েবসাইটে সতর্কতা দিলেই হবে না। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মসজিদের মাইক, কমিউনিটি রেডিও, মোবাইল এসএমএস, অ্যাপভিত্তিক বার্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সবকিছুকে যুক্ত করে সতর্কতা নিচে নামাতে হবে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণা-উদ্যোগে বিজ্ঞানভিত্তিক ও কমিউনিটিভিত্তিক লাইটনিং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে; সুনামগঞ্জের মতো হাওরবাসী এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এটি নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। চতুর্থ দায়িত্ব হলো সচেতনতার ভাষা বদলানো। গ্রামের মানুষকে শুধু ‘বজ্রপাত হলে ঘরে থাকুন’ বললে হবে না, কারণ হাওরে অনেক সময় ‘ঘর’ নাগালের মধ্যেই থাকে না। তাই ব্যবহারিক বার্তা লাগবে: বজ্রের শব্দ শোনামাত্র মাঠ ছাড়–ন; একা গাছের নিচে দাঁড়াবেন না; নৌকায় দাঁড়িয়ে থাকবেন না; ধাতব কৃষিযন্ত্র শরীর থেকে দূরে রাখুন; দলবদ্ধভাবে না থেকে দূরত্ব রেখে বসুন; কুঁড়ে, টিনের ঘর বা খোলা ছাউনি নিরাপদ নয়; বিদ্যুতের খুঁটি, উন্মুক্ত জলাশয়, উঁচু টিলা এড়িয়ে চলুন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কৃষক স্কুল, মাদ্রাসা, স্কুল, বাজার কমিটি এবং জেলে সংগঠনের মধ্যে পৌঁছতে হবে। গবেষণাগুলোও দেখিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে জ্ঞান, মনোভাব ও বাস্তব আচরণের ঘাটতি এখনো বড় সমস্যা। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত সিপিআর, শ্বাসপ্রশ্বাস সহায়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে স্থানান্তর করার সক্ষমতা অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারে। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় এমন প্রশিক্ষণ খুবই সীমিত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের এ বিষয়ে প্রস্তুত করতে হবে। বজ্রপাতকে যদি সরকার দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন ও পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাও একই নীতির অংশ হওয়া উচিত। তালগাছ বা উঁচু বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে, এবং সরকার অতীতে বড় পরিসরে তালগাছ রোপণের কথা বলেছিল। কিন্তু এ ধরনের উদ্যোগ একা যথেষ্ট নয়। কারণ গাছ বজ্রের প্রাকৃতিক আকর্ষক হিসেবে কিছু ভূমিকা রাখতে পারে বটে, কিন্তু হাওরের কৃষকের জন্য নির্ভরযোগ্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রের বিকল্প নয়। বৃক্ষরোপণকে সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে ভাবা যেতে পারে; মূল সমাধান হতে হবে প্রকৌশলভিত্তিক নিরাপদ আশ্রয়, গ্রাউন্ডেড লাইটনিং সিস্টেম, সতর্কতা নেটওয়ার্ক ও জনশিক্ষা। সবশেষে, হাওরাঞ্চলে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা মানে শুধু কয়েকটি রড বসানো নয়; এটি একটি সমন্বিত জননিরাপত্তা আর্কিটেকচার গড়ে তোলা। যেখানে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা, স্থানীয় সরকারের প্রস্তুতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প, কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সচেতনতা এবং ইউনিয়নভিত্তিক দ্রুত আশ্রয় ব্যবস্থা - সব একসঙ্গে কাজ করবে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের মতো ঝুঁকিপূর্ণ হাওর জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা না নিলে প্রতি বছর একই শোক সংবাদ আমরা নতুন করে পড়ব, আর হারাব আমাদের কৃষক, জেলে, দিনমজুর ও গ্রামীণ মানুষের জীবন। বজ্রপাতকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না; এটি প্রতিরোধের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা আছে, এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও বাস্তব পদক্ষেপ। [ইকবাল জিল্লুল মজিদ: পরিচালক, কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম, রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টার]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ