সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

প্রথম দিনেই অনুপস্থিত সাড়ে ৪ হাজার পরীক্ষার্থী

  • আপলোড সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ১১:৫৭:১৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৪-২০২৬ ১১:৫৭:১৩ অপরাহ্ন
প্রথম দিনেই অনুপস্থিত সাড়ে ৪ হাজার পরীক্ষার্থী
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় একযোগে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথম দিনের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় জেলার ১২টি উপজেলার ২০টি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোর সামনে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা শিশুদের মেধা বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১ হাজার ৩৫৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৪,৫৩৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬,৮১৯ জন। এরমধ্যে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রথমম দিনের বাংলা পরীক্ষায় জেলার ২০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৮৩১ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অনুপস্থিত ৪ হাজার ৫২৭ জন পরীক্ষার্থী। গড় হিসেবে প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল ৬০.১৪ শতাংশ। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে জয়ের আনন্দ থাকলেও সময়সূচি নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ লক্ষ করা গেছে। সদর উপজেলার জগাইরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইমুন আহসান বলেন, পরীক্ষা তো ভালো হয়েছে, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন আমাদের ৬ষ্ঠ শ্রেণির পড়া পড়তে হচ্ছে, আবার বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে হয়েছে। সময়মতো পরীক্ষাটা হলে এই বাড়তি চাপটুকু থাকতো না। সাক্তারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূরফিজা হক নৌরিন বলেন, আমার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। আমি আশা করছি বৃত্তি পাবো। তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মাহফুজ হাসান জানায়, সে বৃত্তির ব্যাপারে আশাবাদী। তার ভাষ্যমতে, বাংলা পরীক্ষা সবসময় কিছুটা কঠিন মনে হলেও এবার বেশ ভালো দিয়েছি। আশা করছি ভালো ফলাফল আসবে। এদিকে দীর্ঘ ৪ মাস বিলম্বে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় অভিভাবকদের মনে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসা অভিভাবক লোকমান মিয়া বলেন, পরীক্ষা চালু হওয়া ভালো উদ্যোগ, কিন্তু সেশন অনুযায়ী দেরি হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ঠিক সময়ে পরীক্ষা হলে প্রতিযোগিতা আরও বেশি হতো। ফলাফল যাই হোক, নিয়মিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়াটা জরুরি। এদিকে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় বুধবার অনুষ্ঠিত বাংলা বিষয়ের প্রথম দিনের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৯১৫জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২৯জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলার জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০টি কক্ষে বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাংলা বিষয়ের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫০৬জন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩২জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অপরদিকে, মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯টি কক্ষে একই সময়ে বাংলা বিষয়ের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ৪০৯জন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৭জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ ও মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা যথাসময়ে না হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ায় পরীক্ষায় উপস্থিতি কমে গেছে। অপরদিকে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্র সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি এস.সি (সতীশ চন্দ্র) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়েশা আক্তার। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষা স¤পন্ন হয়েছে। প্রথমদিন ৬০ শতাংশের বেশি পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করেছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স