সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল, আসছে বড় পরিবর্তন আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরও ভয়াবহ : জামায়াত আমির হবিপুর-পুরান সিংচাপইড় সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ঘন ঘন লোডশেডিং, ভোগান্তিতে মানুষ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী শহীদ হাফিজ হত্যার বিচার অবশ্যই হবে : এমপি কয়ছর আহমেদ এক মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের প্রতি চীনের আহ্বান হাওরের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান তুমি সব বোঝো মানি, যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন কৃষকেরা : এমপি কয়ছর আহমদ হাওরে ‘নয়া দুর্যোগ’ জলাবদ্ধতা জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার সুনামগঞ্জের নতুন ডিসি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান প্রাণের উচ্ছ্বাসে বর্ষবরণ শিক্ষা ক্ষেত্রেও সিলেটকে এগিয়ে নিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী দ্রোহে-প্রতিবাদে উদীচী’র বর্ষবরণ আসমানে মেঘ দেখলেই কৃষকের মনে শঙ্কা জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে বিদায় সংবর্ধনা রেললাইন, শুল্ক স্টেশনসহ একগুচ্ছ দাবি সংসদে তুলে ধরলেন এমপি নূরুল ইসলাম
হাওরজুড়ে সোনা ধান

সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্নের আশা

  • আপলোড সময় : ১৪-০৪-২০২৬ ১০:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০৪-২০২৬ ১০:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন
সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্নের আশা
স্টাফ রিপোর্টার::
দিগন্তজোড়া হাওর এখন সোনালি রঙে মোড়া। খেতের পর খেত জুড়ে পেকে ওঠা বোরো ধানের শিষ হাওরের মৃদু বাতাসে দুলছে অপরূপ ছন্দে। কোথাও চলছে ধান কাটার ব্যস্ততা, কোথাও আবার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি - সব মিলিয়ে হাওরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। কৃষকের মুখে হাসি, চোখে স্বপ্ন। ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন তারা। কৃষকরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বিচ্ছিন্নভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে শুরু হবে এই মহোৎসব। প্রকৃতি সহায় থাকলে এবারও বা¤পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমি রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সব ধান ঘরে তুলতে পারলে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলার ৩ হাজার ৩১০ হেক্টরের বেশি জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও বেশি। তবুও শেষ পর্যন্ত প্রকৃতি অনুকূলে থাকায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন তারা। শাল্লা উপজেলার মনুয়া গ্রামের কৃষক নূর উদ্দিন জানান, হাইব্রিড ও উন্নত জাতের ধান প্রতি ত্রিশ শতাংশ জমিতে ২০-২৫ মণ পর্যন্ত ফলন দিচ্ছে। আর দেশি আগাম জাতের ধান ১০-১২ মণ হচ্ছে। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তাহলে ক্ষতির পরও মোট ফলন সন্তোষজনক হবে। কৃষকদের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা শ্রমিক সংকট ও যান্ত্রিক সহায়তার অভাব। ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসায় অনেক এলাকায় শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে হারভেস্টার যন্ত্রের চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। জেলার জগন্নাথপুর, শাল্লা, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই কৃষকেরা কিছু না কিছু জমির ধান কেটে ঘরে তুলছেন। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, বিভিন্ন হাওরে দেশি ও হাইব্রিড জাতের ধান বিচ্ছিন্নভাবে কাটা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বা¤পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতির অনুক¤পা আর কৃষকের শ্রমে ভর করে হাওরের এই সোনালি স্বপ্ন এখন বাস্তবতার দোরগোড়ায়। সবকিছু ঠিক থাকলে কৃষকের ঘরে উঠবে ফসল - আর সুনামগঞ্জের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন গতি - এমনটাই প্রত্যাশা করছেন হাওরবাসী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ