সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী ‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই : আইনমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ১৬২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত ‎মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিম নতুনপাড়ায় ৮৮ প্রবীণকে সম্মাননা দিরাইয়ে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আহত ২ সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সুনামগঞ্জে দুই যুব সংগঠন পেল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অনুদান দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, মাঠে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুনামগঞ্জে এসআরবি উইং কমান্ডার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত ছেলের হাতে মা খুন সীমান্তবর্তী পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সুনামগঞ্জে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সহ্য করা হবে না : এমপি নূরুল ইসলাম পতিত জমিতে মাল্টার বাগান, প্রবাসফেরত সাইফুরের সাফল্য শারদীয় দুর্গোৎসব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ‎জামালগঞ্জে ৫৫ পূজামণ্ডপে এমপির অনুদান, সিসি ক্যামেরা ও সড়ক সংস্কারে সহায়তা প্রশাসনের উৎসবের আনন্দ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয় : জেলা প্রশাসক
দেখার হাওর

পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া বাঁধ রক্ষা করলেন হাজারো কৃষক

  • আপলোড সময় : ১২-০৪-২০২৬ ০৯:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০৪-২০২৬ ০৯:৩১:৩৯ পূর্বাহ্ন
পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া বাঁধ রক্ষা করলেন হাজারো কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার ::
হাজারো কৃষকের চেষ্টায় সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের গুজাউনি ফসলরক্ষা বাঁধ রক্ষা পেয়েছে। টানা আট ঘণ্টা পরিশ্রম করে বাঁশ, বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষা করেছেন কৃষক।
এই হাওরে সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার কৃষকরা বোরো চাষ করে থাকেন। কৃষকরা জানান, শনিবার সকালে গুজাউনি বাঁধটি ভেঙে দেখার হাওরের গোবিন্দপুর অংশে পানি ঢুকতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পানির প্রবাহ বাড়তে থাকে। খবর পেয়ে কৃষকরা বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু করেন। তবে তার আগেই হাওরের কিছু জমির ফসল তলিয়ে যায়। বেলা ১০টা থেকে এলাকার হাজারো কৃষক জিও বস্তা, বাঁশসহ বাঁধ রক্ষার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে কাজ শুরু করেন। বিকেল ৫টার পর বাঁধের কাজ শেষ হয়। তবে এখনো বাঁধটি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে কৃষকরা জানান।
গোবিন্দপুরের ইউপি সদস্য মহিনুর মিয়া বলেন, গুজাউনি বাঁধ ভাঙলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। তাই নিজেদের ফসল রক্ষায় এলাকার মানুষ বাঁধে কাজ করেছেন। গুজাউনি বিলের ইজারাদার মাছ আহরণ করার পর বাঁধে মাটি না ফেলায় বড়দই বিল ও গুজাউনি বিলসহ নদীর পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে গেছে। এলাকার মানুষ বাঁধটি রক্ষা করেছেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টেশন অফিসার খায়রুল আলম বলেন, প্রায় ৮ ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধটি রক্ষা পেয়েছে। তবে ঝুঁকি রয়ে গেছে। বাঁধটিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান, এটি পাউবোর আওতাধীন কোনো বাঁধ নয়, স্থানীয় কৃষকেরাই তাদের প্রয়োজনে বাঁধ দেন, আবার প্রয়োজন হলে সেটি কেটে দেন। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, অতিবৃষ্টিতে দেখার হাওরের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। হাওরের উতারিয়া বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতার পানি নদীতে নামতে না পারায় মেলানির হাওরে পানির চাপ বাড়ে। এ কারণে গত বুধবার উতারিয়া এলাকার বাঁধের কিছু অংশ স্থানীয় কৃষকেরা কেটে দেন পানি নিষ্কাশনের জন্য। এতে করে হাওর থেকে কিছুটা পানি নামেও। কিন্তু পরে প্রশাসনের নির্দেশে আবার বাঁধটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। ফলে আবার পানির চাপ সৃষ্টি হয় মেলানির হাওরের বাঁধে। শনিবার সকালে প্রথমে ওই বাঁধে ছোট নালার সৃষ্টি হয়। কয়েকজন কৃষক সেটি রক্ষার চেষ্টা করেন; কিন্তু পারেননি। একপর্যায়ে ভাঙা অংশটি আরও বড় হয়ে হাওরে ব্যাপক পরিমাণে পানি ঢুকে কিছু জমির ফসল তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিন উদ্দিন জানান, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসীকে বাঁশ, বস্তা নিয়ে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু বাঁধটি হাওরের গভীরে। তাই লোকজন জড়ো হতে ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যায়। স্থানীয় হাজারো কৃষক জড়ো হয়ে বাঁধে কাজ করে সেটি রক্ষা করি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেখার হাওরে সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার মানুষের জমি আছে। এই হাওরে মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি আছে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। হাওরে এবার অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঝাওয়া, শেয়ালমারা, গুমরাসহ কয়েকটি জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
পাউবোর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, যে বাঁধটি দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে, সেটি আমাদের কোনো বাঁধ নয়, আমরা এখানে কোনো কাজও করিনি। স্থানীয়রা এখানে প্রয়োজনে কাজ করেন। আমি শুনেছি বৃষ্টি পানির চাপে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেছেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। বাঁধটির যাতে আর ক্ষতি না হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। সপ্তাহখানেক পর থেকে হাওরে ধান কাটা শুরু হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী

‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী