সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল সংসদে পাস কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন মুক্তিপণ নেয়ার পরও অপহরণকারীরা ফেরত দেয়নি মোনায়েমকে, উৎকণ্ঠায় পরিবার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প কমিউনিটি ভিত্তিক স্বপ্ন কি টিকে থাকবে? দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট : হাসনাত আব্দুল্লাহকে স্পিকার সংসদে ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি’র তৃণমূল দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস
হাওরে বোরো আবাদ

কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন

  • আপলোড সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৮:৫০:৪১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৮:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন
কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের দিগন্তজোড়া হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম জাতের বোরো ধান কাটার মহোৎসব। কিন্তু এই উৎসবমুখর আবহেই নেমে এসেছে শঙ্কার ছায়া। একদিকে সোনালী ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা, অন্যদিকে অকাল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে আধা-পাকা ফসল - দুই বিপরীত চিত্রে এখন হাওরজুড়ে বিরাজ করছে কৃষকের হাসি-কান্নার লড়াই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ছোট-বড় সব হাওর মিলিয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাকনার হাওর, খরচার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশে আগাম জাতের ব্রী-২৮ ও ব্রী-৯৬ ধান কাটা শুরু হয়েছে। উপজেলার কৃষক মারফত আলী বলেন, এবার ১০ কেয়ার জমিতে ব্রী-৯৬ চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে, প্রতি কেয়ারে প্রায় ১৮ মণ ধান পাওয়ার আশা করছি।
তবে এই আনন্দের মাঝেই হাওরাঞ্চলে নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে হালির হাওর, দেখার হাওর ও শিয়ালমারা হাওরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে শত শত কৃষকের স্বপ্নের ফসল। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আধা-পাকা ধানই কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আপতাবনুর জানান, আমার ৮০ কেয়ার জমির মধ্যে ১৫ কেয়ার পানির নিচে চলে গেছে। এই ধান আর চাল হবে না, তাই কাঁচা অবস্থায় কেটে গরুর খাদ্য হিসেবে নিতে হচ্ছে। এত কষ্টের ফসল নষ্ট হওয়া খুবই কষ্টের।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা শুরু হলেও পুরোদমে কাটতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে। আগাম জাতের ফলনে কৃষকরা সন্তুষ্ট। তবে কিছু নিচু এলাকায় পানি জমেছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি - ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে দ্রুত কেটে ফেলতে।
এদিকে, হাওরপাড়ের মানুষের চোখ এখন আকাশের দিকে। কয়েকটি দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের পাহাড়ি ঢল না এলে ঘাম ঝরানো সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা। অন্যথায়, আনন্দের এই মৌসুমেই আবারও কান্নায় ভেঙে পড়তে হতে পারে হাওরাঞ্চলের হাজারো পরিবারকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স