সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ , ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি’র তৃণমূল দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা : আদালতে নির্দোষ দাবি আরিফ, গউস ও বাবরের নদী খনন উপেক্ষিত ইউনূস সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করবে সরকার সুনামগঞ্জে অবৈধ ইটভাটায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা, কার্যক্রম বন্ধ ড. ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা ও প্রেস সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ আজহারীর পর শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

নির্বিঘ্নে ঘরে উঠুক সোনাধান

  • আপলোড সময় : ১০-০৪-২০২৬ ০৯:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৪-২০২৬ ০৯:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন
নির্বিঘ্নে ঘরে উঠুক সোনাধান
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বোরো ধানের মৌসুমে। ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ধানকাটা শুরু হয়েছে, যা কৃষকের মুখে আশার আলো জ্বালিয়েছে। সরকারি হিসেবে অল্প পরিসরে কাটাই শুরু হলেও বাস্তবে হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা বাড়ছে প্রতিদিন। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এবং কোনো বড় দুর্যোগ না এলে এবারও বা¤পার ফলনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। হাওর মানেই ঝুঁকি আর সম্ভাবনার একসঙ্গে পথচলা। বছরের পর বছর কৃষকরা আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে ফসল ফলান। চলতি মৌসুমেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইতোমধ্যে শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাজারো হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি হিসাব একরকম হলেও মাঠের বাস্তবতা আরও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তবুও হাওরের কৃষক থেমে থাকেননি। আগাম পাকা দেশি জাতের ধান কাটার মধ্য দিয়ে তারা ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি উন্নত ও হাইব্রিড জাতের ধান ভালো ফলন দিচ্ছে - এটি ইতিবাচক দিক। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংকট ও আধুনিক হারভেস্টার যন্ত্রের অপ্রতুলতা। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে যে কোনো মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব পরিশ্রম বৃথা যেতে পারে। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছরের মতো এবারও ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও বাঁধের টেকসই সমাধান না হওয়া আমাদের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দুর্বলতাকেই সামনে আনে। হাওরবাসী যেন প্রতি বছরই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তির শিকার হচ্ছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো- দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ। পর্যাপ্ত শ্রমিক সরবরাহ, কম্বাইন হারভেস্টারসহ আধুনিক যন্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের তৎপরতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও নদী খননের মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হাওরের এই সোনালি ফসল শুধু কৃষকের জীবিকা নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। তাই হাওরের ধান শুধু একটি অঞ্চলের বিষয় নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। আমরা প্রত্যাশা করি- প্রকৃতি সহনশীল থাকবে, প্রশাসন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে নির্বিঘেœ হাওরবাসীর ঘরে উঠবে সোনাধান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স