সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

নদী খনন ছাড়া হাওরের টেকসই সমাধান নেই

  • আপলোড সময় : ০৯-০৪-২০২৬ ০৮:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৪-২০২৬ ০৮:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন
নদী খনন ছাড়া হাওরের টেকসই সমাধান নেই
সুনামগঞ্জসহ দেশের হাওরাঞ্চলে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এর স্থায়ী সুফল মিলছে না - এ বাস্তবতা এখন আর অজানা নয়। বরং দেখা যাচ্ছে, এই ব্যয়বহুল উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান তো করছেই না, উল্টো নতুন সংকটের জন্ম দিচ্ছে। নদী খননকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র মাটির বাঁধনির্ভর ব্যবস্থাপনা হাওর অঞ্চলের জন্য এক প্রকার ‘চক্রাকার ব্যয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়, বর্ষা এলেই তা পানিতে বিলীন হয়ে যায়। এতে একদিকে যেমন বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে বাঁধের মাটি ও পাহাড়ি ঢলের পলিতে নদ-নদী ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হচ্ছে। ফলে আগাম বন্যার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে, যা সরাসরি হাওরের বোরো ফসলের ওপর আঘাত হানে। অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় এক দশকে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হাজার কিলোমিটারের বেশি বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ ছিল সীমিত। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না করে কেবল বাঁধ নির্মাণের এই নীতি মূলত সমস্যার মূলে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং হাওর দীর্ঘ সময় পানিবন্দী থাকছে। স্থানীয় কৃষক, গবেষক ও পরিবেশবাদীদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট- নদী ও খাল খনন ছাড়া হাওরের পানি ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হাওরের প্রকৃতি এমন যে, এটি মূলত একটি প্রাকৃতিক জলাধার, যেখানে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই প্রবাহ যদি পলি জমে বা অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে যে কোনো বাঁধই অস্থায়ী সমাধান হয়ে থাকবে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিকল্পনার ঘাটতি। বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রকল্পগুলো কার্যকর হচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে কাজ হলেও তদারকির দুর্বলতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির অভাব প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ফলে একই সমস্যা প্রতি বছর ঘুরেফিরে সামনে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে নদী খননের কিছু উদ্যোগের কথা জানা গেলেও তা বাস্তবায়নের গতি এখনো সন্তোষজনক নয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন ও কার্যকর বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান, যেখানে নদী খনন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ - সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। হাওর শুধু কৃষির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য ভা-ার। তাই হাওর রক্ষায় স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় প্রতিবছরের এই ব্যয়বহুল বাঁধ নির্মাণ কেবল অর্থ অপচয়ের প্রতীক হয়ে থাকবে, আর হাওরের কৃষক ও প্রকৃতি - উভয়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই সময় এসেছে নীতিনির্ধারকদের বাস্তবতা স্বীকার করে অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করার। আমরা মনে করি, নদী খননকে সামনে এনে বৈজ্ঞানিক ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার পথেই হাওরাঞ্চলের স্থায়ী সমাধান নিহিত।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স