সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অব্যবস্থাপনা : দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

  • আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৮:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৮:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অব্যবস্থাপনা : দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
সুনামগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। এর লক্ষ্য- শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরেপড়া রোধ এবং তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করা। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি যদি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নি¤œমানের খাদ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনায় ভেঙে পড়ে, তবে তা শুধু একটি প্রকল্পের ব্যর্থতা নয় - এটি শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। সংবাদে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে, জেলার ৬টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেই নির্ধারিত খাবার পৌঁছাচ্ছে না। কোথাও শুধু বনরুটি বা বিস্কুট দিয়ে দায় সারার চেষ্টা চলছে, আবার কোথাও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদানের কোনো অস্তিত্বই নেই। অথচ নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে-সপ্তাহজুড়ে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করার কথা। বাস্তবতা আর নীতিমালার এই বিস্তর ফারাকই প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বলতা স্পষ্ট করে দেয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যে পরিবেশে এসব খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি নির্মাণাধীন, স্যাঁতসেঁতে, নোংরা স্থানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে শিশুদের জন্য খাবার তৈরি করা হচ্ছে - এ দৃশ্য শুধু অনিয়ম নয়, এটি একটি সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত। খাদ্য প্রস্তুতকারীদের এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং তদারকির অভাব প্রশ্ন তোলে - কোথায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? আরও হতাশাজনক হলো, সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তারই জানা নেই খাবার কোথায় এবং কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছে। একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে এমন অজ্ঞতা ও দায়সারা মনোভাব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তদারকি কমিটি থাকার পরও যদি বাস্তব পরিস্থিতি এমন হয়, তাহলে সেই কমিটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এখানে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই- না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর, না বাস্তবায়নকারী সংস্থার, না প্রশাসনের। “ট্রায়াল” বা “প্রস্তুতির অভাব” কোনো অজুহাত হতে পারে না, যখন বিষয়টি শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সঙ্গে জড়িত। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের নামে নি¤œমানের বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বিতরণ একটি গুরুতর অনিয়ম, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। এই পরিস্থিতি দ্রুত সংশোধনে জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করতে হবে। তৃতীয়ত, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো অনিয়মই আড়ালে না থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শিশুদের জন্য বরাদ্দ প্রতিটি খাদ্যদ্রব্য যেন নিরাপদ, পুষ্টিকর এবং মানসম্মত হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। একটি উন্নয়নশীল দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যদি আমরা এভাবেই অবহেলার শিকার হতে দিই, তাহলে উন্নয়নের সব অর্জনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এর দায় এড়ানো কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স