সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা : আদালতে নির্দোষ দাবি আরিফ, গউস ও বাবরের
- আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৮:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৮:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদের সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউস এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেন তারা।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আব্দুল হোসেন বলেন, আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এরপরই রায়ের পর্যায়ে যাবে বিচারপ্রক্রিয়া। এই মামলাকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মামলা থেকে নিজেদের অব্যাহতির দাবি জানান আসামিরা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, মামলায় উপস্থাপিত ৬৭ জন সাক্ষীর কেউই আসামিদের সরাসরি স¤পৃক্ততার কথা বলেননি। এ কারণে তারা আশা করছেন, পর্যাপ্ত ও জোরালো প্রমাণের অভাবে আসামিরা খালাস পাবেন। ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।
আদালতে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি দায়ের করে। তারা জানান, শুরুতে দায়ের করা এজাহারে তাদের নাম ছিল না। পরবর্তীকালে স¤পূরক অভিযোগপত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
শুনানি শেষে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় আমাদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষীই অভিযোগ করেননি। শুরুতে এজাহারেও আমাদের নাম ছিল না। পরে স¤পূরক অভিযোগপত্রে আমাদের যুক্ত করা হয়েছে। আজ আমরা ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া শেষ করেছি। আমরা আদালতের প্রতি আস্থা রাখি। ন্যায়বিচার হলে আমরা স¤পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হব।
সংসদের হুইপ জি কে গউস বলেন, এ মামলার কারণে সাড়ে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।
উল্লেখ্য, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে ২০০৪ সালের ২১ জুন একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক যুবলীগ কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ওই ঘটনায় দিরাই থানার উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউসসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক