সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে দুরবস্থা

  • আপলোড সময় : ০৭-০৪-২০২৬ ১২:৪৬:১৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-০৪-২০২৬ ১২:৫১:৪৫ পূর্বাহ্ন
স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে দুরবস্থা
শহীদনূর আহমেদ::

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার, ৬ উপজেলার সাড়ে ৭০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেই নির্ধারিত খাবার পৌঁছে না

সুনামগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শিশুদের জন্য সরবরাহকৃত খাবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত করা হচ্ছে - এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জেলার ৬টি উপজেলার সাড়ে ৭০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেই নির্ধারিত খাবার পৌঁছাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে দেশের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে ফিডিং কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর, শাল্লা, জামালগঞ্জ, ছাতক ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭০০ বিদ্যালয়ে সপ্তাহে পাঁচ দিন খাবার দেওয়ার কথা। এর মধ্যে একদিন দুধ ও বিস্কুট, একদিন কলা বা মৌসুমি ফল ও বনরুটি এবং বাকি তিন দিন ডিম ও বনরুটি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে এসব খাবার পৌঁছাচ্ছে না। কোথাও শুধু বনরুটি বা বিস্কুট দেওয়া হলেও অন্যান্য খাবারের দেখা মিলছে না। এমনকি এসব খাবার কোথায় ও কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছে - সে সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা নেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও কর্মকর্তাদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রকল্পের খাবার সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, প্রাণ কোম্পানি এবং এস এ ফুড ইন্ডাস্ট্রি। তবে এস এ ফুড ইন্ডাস্ট্রির সাব-ঠিকাদার হিসেবে স্থানীয় ‘হাসান এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ শহরের বৈঠাখালি খেয়াঘাট এলাকার একটি পুরাতন রাইসমিলের সেডে বনরুটি প্রস্তুত করছে। প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে চাইলে এ প্রতিবেদককে বাধা প্রদান করেন কর্মরতরা।
তবে বাধা উপেক্ষা করে সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সেডের এক পাশে ইট, বালু, সিমেন্টের কাজ চলার পাশাপাশি অপর পাশে অত্যন্ত নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বনরুটি তৈরি করা হচ্ছে। কর্মচারীদের বিশ্রামাগার ও শৌচাগারও একই স্থানের পাশে অবস্থিত, যেখান থেকে সরাসরি কর্মীরা উৎপাদন কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এতে খাদ্যের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একটি অসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাতারাতি খাবার প্রস্তুত করে বাক্সবন্দি করা হলেও এসএ ফুড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল কায়সার চৌধুরী দাবি করেন, এটি ট্রায়াল দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা মাত্র দায়িত্ব কাজটি পেয়েছি। ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছানোর কথা হলেও আমাদের প্রতিষ্ঠান এখনোও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুত করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি সুনামগঞ্জ থেকে শিশুদের মানসম্মত খাবার তৈরি করতে। আমরা এখন যে খাবার প্রস্তুত করছি তা ট্রায়ালের জন্য। এসব খাবার বিদ্যালয়ে দেয়া হবে না।
পরদিন সরেজমিনে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা এই বনরুটি সরবারহ করা হয়েছে শিশুদের খাবার হিসেবে। তবে দেয়া হয়নি অন্যান্য খাবার। এই খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চালবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজব আলী বলেন, আমরা কেবল বনরুটি ও বিসকিট পেয়েছি। বাকি খাবার এখনো পাইনি। বাচ্চাদের জন্য যে খাবার দেয়া হচ্ছে আমরা চাই যেন সে খাবারগুলোর মান ভালো হয়। এই খাবার যেন জীবাণুমুক্ত থাকে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের খাবার কারা প্রস্তুত করছে এই তথ্য জানা নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তবে খাবারের মান নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা তদারকি করবেন জানিয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান্নানোয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ফিডিং প্রকল্পে চালু করেছে সরকার। যার মাধ্যমে জেলার ৬ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার পাবেন। আমার জানা মতে এখনো কিছু কিছু আইটেম স্কুলে পৌঁছায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হয়তো প্রস্তুত করতে পারেনি। খাবারের গুণগত মান ঠিক হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ একটি কমিটি রয়েছে। আমরা চাই এই খবরটি বেশি প্রচার হোক। মানুষ জানুক বাচ্চাদের জন্য কি কি খাবার দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। অনেক অনিয়মের খবর পাচ্ছি। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স