সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

  • আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০১:০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০১:০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে
দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উগ্রবাদ দমনের প্রশ্নটি আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত শনিবার ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন- “উগ্রবাদীরা যেন কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে” তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামো বরাবরই ধর্মীয় সহনশীলতা ও সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও মতাদর্শের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী উগ্রবাদী প্রবণতা ও অস্থিরতার প্রভাব থেকে আমরা সম্পূর্ণ মুক্ত নই। এ অবস্থায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন অপরিহার্য। ভূমিমন্ত্রীর বক্তব্যে যে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, তা হলো- দেশপ্রেমিক নাগরিকদের সম্মিলিত সতর্কতা। কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন - সবখানেই সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করতে হবে। উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে সম্মিলিতভাবে। একই সঙ্গে, সরকারের সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক নীতির প্রতিফলনও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জলমহাল ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন রক্ষা এবং হাওরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পরিকল্পনা - এসব উদ্যোগ কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করে। কারণ বঞ্চনা ও বৈষম্যই অনেক সময় উগ্রতার জন্ম দেয়। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের বর্তমান দুরবস্থা এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। পরিকল্পনাহীন অবকাঠামো উন্নয়ন যে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে, তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। উগ্রবাদ দমনে শুধু কঠোরতা নয়, প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে, যেখানে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। পরিশেষে বলা যায়, উগ্রবাদ প্রতিরোধে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। সতর্কতা, সচেতনতা ও সুশাসনের সমন্বয়ে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স