সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি সংকটে ভোগান্তি বাড়ছেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী ইভটিজিং প্রতিরোধে শহরে পুলিশের বিশেষ অভিযান বাঁধ দুর্বল, আকাশে মেঘ, দুশ্চিন্তায় হাওরপাড়ের কৃষক নষ্ট হওয়ার পথে হাজারো হেক্টর জমির ধান ‎জামালগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত ২ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ ইরানকে ১০ দিনের আলটিমেটাম ট্রাম্পের কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার সার-বীজ দেওয়া হবে কৃষকদের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা তাহিরপুরে সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগে চার গ্রামের মানুষ ভূমধ্যসাগরে নিহত ১২ যুবকের পরিবারে কান্না থামছেনা, ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা হামের লক্ষণ নিয়ে দুই শিশু হাসপাতালে ভর্তি, আরও একজনকে সিলেটে রেফার হাওরের ধান ঘরে তুলতে জেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ‎জামালগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ পিআইসি কমিটির সভা জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে বাদাঘাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম ছাতকে ‘দুর্বল বাঁধ’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক দেখার হাওরের জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের দাবি ভূমধ্যসাগরে গ্রিসগামী নিহত ১২ যুবকের মরদেহ পেতে স্বজনদের আকুতি ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি : একমাত্র পুত্রের শোকে প্রবাসী পিতা আইসিইউতে, লাশ ফেরত পেতে মায়ের আকুতি সব হারিয়ে ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব, প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি, তদন্ত কমিটি গঠন

হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

  • আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০২:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০২:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
হাওরাঞ্চলে আবারও বোরো ধানের ওপর নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া। মার্চের শেষ সপ্তাহেই অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণে হাজারো হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ার খবর শুধু কৃষকের কপালেই ভাঁজ ফেলেনি, বরং আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেও প্রকাশ করেছে।
সরকারি হিসেবে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে। অথচ চলতি মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ হওয়া এই ফসল থেকেই প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা ছিল। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা। এই বিপুল সম্ভাবনা এখন হুমকির মুখে।
সমস্যার মূল কোথায়? একদিকে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত - যা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রতিফলন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা। নদ-নদী, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়েছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই হাওরাঞ্চল ডুবে যাচ্ছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পানি নিষ্কাশন নিয়ে কৃষকদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। উজানের কৃষকরা পানি নামাতে চাইলে ভাটির কৃষকরা বাধা দিচ্ছেন, কারণ এক পক্ষের রক্ষা অন্য পক্ষের ক্ষতি ডেকে আনছে। এই দ্বন্দ্ব কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়, বরং একটি সমন্বিত জলব্যবস্থাপনার অভাবকেই স্পষ্ট করে। 
ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হলেও বাস্তব চিত্র বলছে, কেবল মাটির কাজ শেষ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বাঁধ টেকসই করা, খাল পুনঃখনন, পানি চলাচলের পথ নিশ্চিত করা - এসবের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টি না থাকলে প্রতিবছরই একই সংকট ফিরে আসবে।
এই পরিস্থিতিতে কিছু জরুরি পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রথমত, হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, উজান-ভাটির সমন্বয়ে বৈজ্ঞানিক পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তৃতীয়ত, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, আগাম আবহাওয়া পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কৃষকদের জন্য দ্রুত সতর্কতা ও করণীয় নির্দেশনা পৌঁছে দিতে হবে।
বড় কথা, হাওরকে শুধু একটি মৌসুমি কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হিসেবে নয়, একটি সংবেদনশীল ইকোসিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এখানে যে কোনো উন্নয়ন বা ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
হাওরের কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ। তাদের ফসল রক্ষা করা মানে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। তাই এখনই সময়, অস্থায়ী সমাধান নয়, টেকসই পরিকল্পনায় এগিয়ে যাওয়ার। না হলে প্রতিবছরের এই জলাবদ্ধতার দুঃস্বপ্ন আমাদের কৃষি অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
জ্বালানি সংকটে ভোগান্তি বাড়ছেই

জ্বালানি সংকটে ভোগান্তি বাড়ছেই