সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক খেলাপি ঋণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হাওর ও কৃষক-মৎস্যজীবীদের রক্ষায় ১০ দফা দাবি সিলেটে দেশের প্রথম সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন, যা বললেন মন্ত্রী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য খুলল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার পথ সুরমা নদীর তীর দখল করে স্থাপনা তৈরির হিড়িক উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ে শিক্ষকের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের আহ্বান সুনামগঞ্জে উড়াল সড়ক : সম্ভাবনার নতুন দুয়ার তাহিরপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা তাহিরপুরে হত্যা মামলায় মাও. আব্দুস শহীদকে অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন ভুয়া মালিক সাজিয়ে ভূমিখেকো চক্রের জমি রেজিস্ট্রি নবম পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ধোপাজানে বালু-পাথর লুট ঠেকাতে এবার সিসি ক্যামেরা স্থাপন ছাতকের ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ

ইউরোপযাত্রায় বছরে মরছেন ৫০০ বাংলাদেশি

  • আপলোড সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ১০:৪৭:০০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩১-০৩-২০২৬ ১০:৪৭:০০ অপরাহ্ন
ইউরোপযাত্রায় বছরে মরছেন ৫০০ বাংলাদেশি
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: ভূমধ্যসাগরে ডুবে বা লিবিয়ায় দালালদের নির্যাতনে অসংখ্য প্রাণহানির পরও সচ্ছল জীবনের স্বপ্নে অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রার চেষ্টা থামছে না। সর্বশেষ গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে নৌকা ডুবে প্রাণ গেছে ১৮ থেকে ২০ বাংলাদেশির। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ যুবক রয়েছেন। বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে বছরে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যাচ্ছেন। তবে অনেকের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। সাগরে প্রাণহানি, লিবিয়ায় নিয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণের জন্য আটক করে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দালাল ও মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলা ছিল মোট ৪ হাজার ৪৮০টি। কিন্তু এই বিপজ্জনক স্বপ্নযাত্রা থামছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটা অঙ্কের নগদ টাকা আয়ের উৎস হওয়ায় এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় গ্রিস উপকূলে ওই নৌকাডুবিতে ১৮-২০ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর ২৩ জনের অর্ধগলিত মরদেহ ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের সৈকতে ভেসে এসেছিল। পরিচয় শনাক্ত না করতে পারায় তাঁদের লিবিয়ায় দাফন করা হয়। মৃতদের অবয়ব ও পোশাকের ধরনে তাদের সবাইকে বাংলাদেশি মনে হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশি নিহত হন। ২০২৩ সালের ১৩ মার্চে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়া ৩০ জনের ভাগ্য এখনো অজানা। একই বছরের ৯ আগস্ট রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ৯ তরুণ। এর আগে ২৪ জুন ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ¯িপডবোট ডুবে নরসিংদীর এক তরুণ নিহত এবং নিখোঁজ হন ১৩ তরুণ। ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালেও একাধিক নৌকাডুবিতে প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালের জুনে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে বাংলাদেশ, মিসরসহ চারটি দেশের অন্তত ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যান। সাগরপথে এই মৃত্যুঝুঁকি নেওয়ার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নৌকাডুবির ঘটনাও বাড়ছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বলেছে, প্রতিবছর লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার এই রুটে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যান। গত ১০ বছরে ভূমধ্যসাগরে ৩০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন, যাদের বেশির ভাগ বাংলাদেশি। শুক্রবারের নৌকাডুবির পর আইওএম জানায়, গত ১০ দিনে কয়েকটি নৌকাডুবি হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েক’শ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণহানি হয়ে থাকতে পারে বলে সংস্থাটির আশঙ্কা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় ইউরোপযাত্রার চেষ্টায় বিপদে পড়া ৪৮ হাজার ৫৪৮ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক ২৩৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে প্রাণ হারানো ১৮৭ জন বাংলাদেশির মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা হয়েছে। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার চেষ্টাকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের সংখ্যা বেশি। এসব এলাকায় সক্রিয় দালাল চক্র উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। সূত্রমতে, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে সাগরপথে পাচার হওয়া অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৭৩৫ জন। তালিকায় এরপর ছিল ইরিত্রিয়া, মিসর, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সিরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, গিনি ও আলজেরিয়ার অবস্থান। ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী সংস্থা ও মাইগ্রেন্ট ইনফোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগর হয়ে ৩ হাজার ৩৯৫ জন অবৈধ অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এ দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৬৬০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ভূমধ্যসাগর রুট দিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী যান ইতালি ও গ্রিসে। অবৈধ পথে ইউরোপে পাঠাতে সক্রিয় দালাল চক্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। বড় কোনো ঘটনার পর দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তৎপরতা দেখা যায়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ৪ হাজার ৪৪৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিচারাধীন ৩ হাজার ৩৪টি মামলা এবং তদন্ত চলছে ১ হাজার ৪৪৬টির। এসব মামলায় ১৬ হাজার ৬৭৮ আসামি। ২০২৪ সালে মামলা ছিল ৪ হাজার ২৯১টি এবং আসামি ছিল ১৬ হাজার ৪৩২ জন। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দেশের ৮-১০টি জেলা থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে মানব পাচারের ঘটনাগুলো ঘটছে। ঝুঁকি জেনেও এই এলাকার মানুষ এই পথ বেছে নিয়েছে। এ জন্য তাদের সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সারা বছর তৎপর থাকতে হবে। কিন্তু যখন কোনো ঘটনা ঘটে, তখনই শুধু তারা তৎপর হয়। এ জন্য ঘটনাগুলো কমছে না। মানব পাচারের বেশির ভাগ মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. বদরুল আলম মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে সিআইডিতে মানব পাচারের ৯১টি মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে লিবিয়ায় নির্যাতন, হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার মামলাও আছে। সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী