মাদকবিরোধী সামাজিক জাগরণ : মোহনপুরবাসীকে ধন্যবাদ
- আপলোড সময় : ২৮-০৩-২০২৬ ০৮:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৮-০৩-২০২৬ ০৮:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে মাদকবিরোধী যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ অবশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদের পথে নেমেছেন - এটি শুধু একটি গ্রামের ঘটনা নয়, বরং সারাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
মাদক আজ সমাজের অন্যতম ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তির জীবন নয়, পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ মাদকের সহজলভ্যতার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মোহনপুর গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রমাণ করে, সচেতন জনগণ চাইলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
মোহনপুরে অনুষ্ঠিত মাদকপ্রতিরোধ সভায় স্থানীয় জনগণ যেভাবে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছেন, তা একটি সাহসী উদ্যোগ। একইসঙ্গে মাদক কারবারিদের সংশোধনের সুযোগ দেয়া মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিচয় বহন করে। তবে এই সময়সীমার মধ্যে কার্যকর পরিবর্তন না এলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি - এটি নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বলায় সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন - এমন অভিযোগ সভায় উঠে এসেছে। যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য এ ধরনের কাজে জড়িত থাকে, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, সমাজের আড়ালে থেকে কেউ যদি চিকিৎসা বা অন্য কোনো পেশার আড়ালে মাদক ব্যবসা চালিয়ে থাকে, তবে তা আরও বিপজ্জনক। এমন অভিযোগের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হয়ে আইনের আওতায় আসে।
মাদক প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক নজরদারি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এ লড়াই সফল হবে না। মোহনপুরের উদ্যোগকে অনুসরণ করে দেশের প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা সময়ের দাবি।
পরিশেষে বলা যায়, মোহনপুর গ্রামের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে- সমাজের মানুষ জেগে উঠলে মাদকের মতো ভয়াবহ সমস্যার মোকাবিলা সম্ভব। এখন প্রয়োজন এই জাগরণকে টেকসই করা এবং প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়