সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল সংসদে পাস কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন মুক্তিপণ নেয়ার পরও অপহরণকারীরা ফেরত দেয়নি মোনায়েমকে, উৎকণ্ঠায় পরিবার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প কমিউনিটি ভিত্তিক স্বপ্ন কি টিকে থাকবে? দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট : হাসনাত আব্দুল্লাহকে স্পিকার সংসদে ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি’র তৃণমূল দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস

শোক প্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রত্যাহারের দাবি

  • আপলোড সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ১০:০৭:১২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ১০:০৭:১২ পূর্বাহ্ন
শোক প্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রত্যাহারের দাবি
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত ব্যক্তিদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। একইসঙ্গে সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধে দন্ডিতদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানায় সংগঠনটি। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফ্রন্টের নেতারা এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, বৃহ¯পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই একাধিক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে; যা মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় মর্যাদা এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। নেতারা বলেন, সংসদের শোক প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যায় অংশ নেওয়া আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সদস্য এবং দ-িত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি যে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছে, সেই দলেরই চিফ হুইপ যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রস্তাব করেছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিবৃতিতে বলা হয়, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা সংসদ। সেখানে শহীদদের হত্যাকারীদের প্রতি শোক প্রকাশ করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়ার সামিল। এটি ইতিহাস, ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং জাতির অস্তিত্বের বিরুদ্ধে একটি ঘৃণ্য অপরাধ। নেতারা আরও বলেন, সংসদের ভেতরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রতিনিধিরা দাঁড়াতে গড়িমসি করে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন; যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে এ দেশের জন্ম ঠেকাতে চেয়েছিল, তারা আজও সংসদে বসে সেই পুরনো চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছে। বাম নেতারা আরও অভিযোগ করেন, সংসদের সভাপতিম-লীর পাঁচ সদস্যের একজন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত এটিএম আজহারুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত একজন ব্যক্তিকে সংসদের সম্মানজনক সভাপতিম-লীর প্যানেলে রাখা শুধু সংসদের মর্যাদাহানিই নয়, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতিও রাষ্ট্রীয় অবমাননা। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন হয়েছিল বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে; মুক্তিযুদ্ধের ঘাতক ও গণহত্যার নায়কদের পুনর্বাসনের জন্য নয়। সেই অভ্যুত্থানে যে তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, তারা রাজাকারের পুনর্বাসন দেখতে রাজপথে নামেনি। তারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একসময় মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় ছিল এবং নিজেদের স্বৈরতান্ত্রিক ও দমনমূলক শাসন টিকিয়ে রাখতে মুক্তিযুদ্ধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। সেই দ্বিচারিতাই তাদের পতনের কারণ হয়েছে। ধর্মান্ধ শক্তিকে তোষণ করে বর্তমান সরকারও যদি একই পথে হাঁটে, তবে তাদেরও একই পরিণতি হতে পারে। বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট দৃঢ়ভাবে দাবি জানায় - সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও গণহত্যায় অংশ নেওয়া দ-িত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়াতে অস্বীকার করা সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে সংসদীয় বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিম-লীর প্যানেল থেকে অপসারণ করতে হবে। বিবৃতিতে সই করেন গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাসদের সাধারণ স¤পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ স¤পাদক আব্দুল্লাহ কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ স¤পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ স¤পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ স¤পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা এবং সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স