শহীদনূর আহমেদ::
দীর্ঘ ৫ মাস পর চলতি সপ্তাহে কয়েকবার বৃষ্টির দেখা মিলেছে সুনামগঞ্জে। বৃষ্টিতে হাওরের ফসলি জমিতে স্বস্তি ফিরলেও বর্ধিত সময়েও ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মাঝে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ে মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করা কথা বললেও কৃষক ও হাওরের সংগঠনগুলো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে জানিয়েছে শঙ্কা। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের চলতি অর্থ বছরে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ১২ উপজেলায় ৭১৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বাঁধের কাজ সম্পন্নের শেষ সময়সীমা ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও ১৫ দিন অর্থাৎ ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। বর্ধিত সময় পর্যন্ত ৯২ % কাজ শেষ করার দাবি করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পওর-১ মামুন হাওলাদার। চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের কারণে বাঁধের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় কাজ শেষ না করতে পারলেও সপ্তাহ দিনের মধ্যে কাজ স¤পন্ন করার কথা জানান এই প্রকৌশলী। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই তথ্যের সাথে এক মত নয় হাওর ও কৃষকের দাবি আদায়ে সোচ্চার সংগঠন হাওর বাঁচাও আন্দোলনসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংগঠনগুলোর দাবি, দুই মেয়াদেও অনেক বাঁধের কাজ স¤পন্ন হয়নি। বেশির ভাগ বাঁধে ক¤েপকশন, দুরমুজ ও ঘাস লাগানো বাকি রয়েছে। এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ রয়েছে যেখানে মাটির কাজ চলমান। বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় হাওর ডুবির শঙ্কা করছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। সরেজমিনে বৃহ¯পতিবার তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের আলমখালি ক্লোজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় দুইটি এস্কেভেটর ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। মূল ক্লোজারে মাটি ফেলা শেষ হলেও স্লোভ ও ক¤েপকশনসহ জিও ব্যাগের কাজ বাকি রয়েছে। বাঁধের বেশির এলাকায় এখনো মাটি ভরাট বাকি। সংশ্লিষ্ট পিআইসির লোকজন বলছেন, সময় মতো দেয়া হয়নি টাকা। তাছাড়া হাওর মাটির সংকট থাকায় সময় মতো বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি। পিআইসি’র বাঁধ তদারকিতে থাকা শাহ আলম বলেন, আলম খালি ক্লোজার অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, তাই কেউ এই বাঁধ করতে চায় না। এখানে মাটির অনেক সংকট। তাছাড়া সময় মতো টাকা না দেয়ায় কাজ পিছিয়েছে। তবে আমরা রাতদিন চেষ্টা করছি কাজ তুলতে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। মাটিয়ান হাওরের কৃষক জমির মিয়া বলেন, আমরা এক ফসলের উপর নির্ভরশীল। এই ফসল ঘরে না তুলতে পারলে পরিবার নিয়ে সারা বছর কষ্ট করতে হবে। এখনো বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। আমার মতো অনেক কৃষক দুশ্চিন্তায় রয়েছে। আমরা চাই দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ হোক।
উদ্বেগ জানিয়ে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি বাঁধের কাজ গাফিলতি হচ্ছে। সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করা যায়নি। ইতোমধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গেছে। বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় ফসলের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এবার সময়মতো পিআইসিরদের টাকা ছাড় দেয়া হয়নি। অধিদপ্তর বাঁধের কাজকে গুরুত্ব দেননি। এবার হাওর ডুবি হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এর দায় নিতে হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
হাওরে বোরো চাষ
বৃষ্টিতে স্বস্তি, বাঁধে উৎকণ্ঠা
- আপলোড সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ০৯:৫৮:০৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ০৯:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ