সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক

হাওরের বাঁধের টাকায় রাস্তা : দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

  • আপলোড সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০১:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০১:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন
হাওরের বাঁধের টাকায় রাস্তা : দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। প্রতিবছর এখানকার কৃষকরা আগাম বন্যার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বোরো ফসল উৎপাদন করেন। সেই ফসল রক্ষার জন্য সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেয় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য - এই গুরুত্বপূর্ণ খাতেও দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধের বরাদ্দ থেকে অন্তত শতাধিক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে প্রায় ২০ কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ আবারও সেই পুরোনো চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, যেখানে হাওরের বাঁধের প্রয়োজন নেই, সেখানেও প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনকি কৃষকের ফসলরক্ষা বাঁধের বরাদ্দ ব্যবহার করা হয়েছে গ্রামের সড়ক, ব্যক্তিগত রাস্তা কিংবা অপ্রাসঙ্গিক উন্নয়ন কাজে। দোয়ারাবাজার উপজেলার বাদে গোরেশপুর গ্রামে হাওরের বাঁধের কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ২২ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদনের ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে প্রকল্প বাছাই প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সততার ওপর। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই প্রকল্পে যথাযথ কাজও হয়নি। মাত্র ৫-৬ ইঞ্চি মাটি ফেলে দায়সারা কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, বড়জোর এক লাখ টাকার কাজ করে বাকিটা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এটি কেবল একটি উদাহরণ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একই ধরনের অসংখ্য প্রকল্পের অভিযোগ উঠে এসেছে, যেখানে প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হাওরের বাঁধ প্রকল্পের ক্ষেত্রে অতীতে বহুবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আগাম বন্যায় ফসলহানির পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব কমই হয়েছে। ফলে একই চক্র বারবার নতুন নামে, নতুন কৌশলে সরকারি অর্থ লুটপাটের সুযোগ পাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- যে অর্থ কৃষকের ফসল রক্ষার জন্য বরাদ্দ, তা অন্য খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি শুধু নীতিমালা বিরোধী নয়, কৃষকের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। কারণ একটি দুর্বল বা অপ্রয়োজনীয় বাঁধ প্রকল্পের কারণে যদি হাওরে ঢলের পানি ঢুকে পড়ে, তাহলে হাজার হাজার কৃষকের এক বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বরাদ্দের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। যদি কোথাও ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এবং সুবিধাভোগী সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু সামাজিক আন্দোলন নয়, রাষ্ট্রকেও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। কারণ হাওরের বাঁধের টাকা কোনো ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর লুটপাটের স¤পদ নয় - এটি দেশের কৃষক ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সরকারের উচিত দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলার সব প্রকল্প যাচাই করা। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে বরাদ্দ বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি রোধে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। হাওরাঞ্চলের কৃষকরা প্রতি বছর প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেন। তাদের সেই সংগ্রামের পেছনে রাষ্ট্রের যে সহায়তা থাকার কথা, সেটি যদি দুর্নীতির কবলে পড়ে, তাহলে তা শুধু একটি অঞ্চলের ক্ষতি নয় - পুরো দেশের জন্যই অশনিসংকেত। এখনই সময় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার, নইলে হাওরের বাঁধ নয়, দুর্নীতির বাঁধই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু