সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায় : প্রধানমন্ত্রী হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতঙ্ক দোয়ারাবাজারে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস এসআই সুপ্রাংশু দে’র মৃত্যুতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি’র শোক শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের নবনির্মিত মন্দির উদ্বোধন আজ শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নোনাজলে ডুবে যাচ্ছে স্বপ্ন, ডুবে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ লক্ষাধিক গ্রাহকের ভোগান্তি ২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক ‎জামালগঞ্জে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ‎জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত সাচনা বাজারের বন্ধ হাসপাতাল চালুতে প্রশাসনিক সুপারিশ জে-স্কয়ারের অনন্য আয়োজন ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত যাদুকাটা বালু মহাল ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক পাগল হাসানের গান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবি বজ্রপাত কেড়ে নিল ৫ প্রাণ মন্ত্রী সাহেব প্রশংসা একটু কম, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বললেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল, আসছে বড় পরিবর্তন

হাওরে স্বস্তির বৃষ্টি, খুশি কৃষক

  • আপলোড সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০২:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৩-২০২৬ ০২:৩৮:১৭ পূর্বাহ্ন
হাওরে স্বস্তির বৃষ্টি, খুশি কৃষক
বিশ্বজিত রায়::
সুনামগঞ্জে স্বস্তির বৃষ্টিতে কৃষকের মনে ভালো ফলনের আশা সঞ্চারিত হয়েছে। বোরো মৌসুম শুরুর পর থেকে টানা খরায় ফলন বিপর্যস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল হাওরে। রবিবার রাতের একপসলা বৃষ্টি সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে কৃষকের। দীর্ঘ খরায় হাওর এলাকার মানুষ বৃষ্টি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতেরও আয়োজন করেছিল। রবিবার জামালগঞ্জের ভীমখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলভাঙা হাওরের মাঠে স্থানীয় কৃষক এ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করে।
গত রাতের বৃষ্টি আল্লাহর রহমত বলে উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ। হাওরের রাজধানী খ্যাত সুনামগঞ্জে ছোট-বড় হাওর রয়েছে প্রায় ২০০টি। এর মধ্যে টাঙ্গুয়া, শনি, হালি, মহালিয়া, পাগনা, চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল, ধানকুনিয়া, দেখার হাওর, ছায়ার হাওর, বরাম, উদগল, মাটিয়ান, কড়চা, আঙ্গরখালি, সানুয়াডাকুয়া, মইয়ার হাওর, নলুয়ার হাওর অন্যতম। সবগুলোতেই কমবেশি বোরো আবাদ হয়ে থাকে। বোরো ভান্ডার হিসেবে এই হাওরাঞ্চলের আলাদা খ্যাতি আছে। সারাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এখানকার উৎপাদিত বোরো ধান। এ ধান হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। বোরো আবাদের সময়কালে প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে কৃষকের মন ভালো থাকে। আবার খরা-অতিবৃষ্টি থাকলে কৃষক দুশ্চিন্তায় ভোগেন। দীর্ঘ খরার পর গেল রাতের বৃষ্টি কৃষকের মনে আলাদা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

দিরাই উপজেলার বরাম হাওর পারের সরালীতোপা গ্রামের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরার এইদিকে আজ পয়তাবেলা (ভোরে) বৃষ্টি হইছে। এই বৃষ্টি বোরো ফলনের লাগি খুব দরকার ছিল। বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের রঙ এখন পাইল্টা (পরিবর্তন) যাইব। সব ক্ষেত্রেই উপকার হইব।
তাহিরপুরের শনির হাওর পারের গোবিন্দশ্রী গ্রামের বোরো চাষী সেলিম আখঞ্জী বলেন, খরায় হাওরের জমি জ্বলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই বৃষ্টি আল্লাহর রহমত হয়ে এসেছে। অনেক উপকার হবে হাওরের।

বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জের সহ সভাপতি খায়রুল বশর ঠাকুর খান বলেন, বৃষ্টির জন্য কৃষক চাতকের মতো চেয়ে আছিল। শেষ পর্যন্ত জেলার অনেক জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। খরায় বোরো ফলনে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বৃষ্টি হওয়ায় তা অনেকটা কেটে গেছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, জেলায় এ বছর ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হেক্টর জমি বেশি চাষাবাদ হয়েছে সুনামগঞ্জে। জেলার প্রায় ২ লক্ষ কৃষক এই আবাদ করেছেন। এতে প্রায় ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
সুনামগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বৃষ্টি কৃষকের বহু কাক্সিক্ষত ছিল। এতে কৃষক অনেক খুশি। বিশেষ করে যেসব উঁচু জমিতে সেচের সুবিধা নেই, সে জমির জন্য খুবই উপকার হয়েছে। এই বৃষ্টির ফলে ধানে চিটা থাকবে না। ধানের মড়ক ভাবটাও দূর হয়ে যাবে। বৃষ্টি পরবর্তী রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়াও বোরোর জন্য ইতিবাচক। কয়েকদিন পর আরেকটা বৃষ্টি হলে আরও ভালো হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স