আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত
রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীর সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি
- আপলোড সময় : ০৯-০৩-২০২৬ ১০:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-০৩-২০২৬ ১০:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার - সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সুনামগঞ্জ সহযোগিতা করে।
আলোচনা সভায় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এজেএম রেজাউল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আয়েশা আক্তার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) চাতক চাকমা।
মেহেদী হাসান খানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সুনামগঞ্জের সভাপতি কানিজ সুলতানা, মো. শাহ আলম, সবিতা বীর প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সনাক, সুনামগঞ্জের সভাপতি কানিজ সুলতানা বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পুঁজি হিসেবে অর্থ, পেশীশক্তি, ধর্ম এবং পুরুষতান্ত্রিকতার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০-এ উন্নীত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহনের বিধান প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, আজকের প্রতিটি সঠিক পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের জন্য একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমেই নারীর প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।
বক্তারা বলেন, দেশে নারীর উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এখনও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ধর্মীয় কুসংস্কার, ধর্মের অপব্যবহার, পুরুষশাসিত সমাজের রক্ষণশীল মনোভাব এবং অধিকার বিষয়ে নারীর সচেতনতার অভাব নারী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবও রয়েছে।
সভায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সর্বস্তরের নারীর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য, যা আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, নারী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ