সুনামগঞ্জ , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎জামালগঞ্জে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ‎জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত সাচনা বাজারের বন্ধ হাসপাতাল চালুতে প্রশাসনিক সুপারিশ জে-স্কয়ারের অনন্য আয়োজন ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত যাদুকাটা বালু মহাল ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক পাগল হাসানের গান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবি বজ্রপাত কেড়ে নিল ৫ প্রাণ মন্ত্রী সাহেব প্রশংসা একটু কম, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বললেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল, আসছে বড় পরিবর্তন আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরও ভয়াবহ : জামায়াত আমির হবিপুর-পুরান সিংচাপইড় সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ঘন ঘন লোডশেডিং, ভোগান্তিতে মানুষ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী শহীদ হাফিজ হত্যার বিচার অবশ্যই হবে : এমপি কয়ছর আহমেদ এক মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের প্রতি চীনের আহ্বান হাওরের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান তুমি সব বোঝো মানি, যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন কৃষকেরা : এমপি কয়ছর আহমদ

হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ : কাজের গতি ও সময়মতো বিল - দুইই জরুরি

  • আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ১১:৩১:১৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ১১:৩১:১৫ অপরাহ্ন
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ : কাজের গতি ও সময়মতো বিল - দুইই জরুরি
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকটাই নির্ভর করে একটি মৌসুমের বোরো ফসলের ওপর। সেই ফসল রক্ষার প্রধান ভরসা হচ্ছে ফসলরক্ষা বাঁধ। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের আগেই এসব বাঁধের নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শেষ করা না গেলে অকাল বন্যা কিংবা পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই হাওরের কৃষকের সারা বছরের শ্রম পানিতে ভেসে যেতে পারে। তাই বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকে শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং কৃষকের জীবনরক্ষার অন্যতম অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সম্প্রি শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। তিনি সরেজমিনে বাঁধের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও কর্মকর্তাদের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ স¤পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে মাটির সঠিক কমপেকশন, নির্ধারিত ঢাল বজায় রাখা, দুরমুজকরণ এবং দ্রুত ঘাস লাগানোর নির্দেশনা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে পরিদর্শনকালে পিআইসি সংশ্লিষ্টদের যে আর্থিক সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় না হওয়ায় অনেকেই ধারদেনা করে শ্রমিকের মজুরি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাওনাদারদের চাপ ও আর্থিক অনিশ্চয়তা নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বাঁধের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। এ বাস্তবতায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে পিআইসিদের বিল প্রদানের আশ্বাস স্বস্তিদায়ক। তবে কেবল আশ্বাসে নয়, বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই এ সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হাওর অঞ্চলে সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়। বিলম্ব হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে কৃষকের ভাগ্যের ওপর। হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ যাতে সঠিক সময়ে এবং মানসম্মতভাবে স¤পন্ন হয়, সে জন্য প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় কমিটিগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বরাদ্দ ছাড়ের ক্ষেত্রে দাপ্তরিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত অর্থ ছাড় নিশ্চিত করা জরুরি। হাওর বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, আর কৃষক বাঁচলে টিকে থাকবে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা। তাই ফসলরক্ষা বাঁধের কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো অর্থ ছাড় ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে এর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স