তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩
- আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ০৯:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ০৯:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজন সিএনজি চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১ মার্চ সংঘটিত এ ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার অভিযানে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁধনপাড়ার সোহেল মিয়া (৩০), গণিপুরের মোঃ এরশাদ (৩৪) ও বড়পাড়া এলাকার মাসুম মিয়া (২৫)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন-চার মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ওই তরুণীর সঙ্গে ভৈরব নামে এক যুবকের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্প্রতি ওই তরুণী ভৈরবের সঙ্গে দেখা করতে সুনামগঞ্জে আসে। সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের দেখা হয়। সেখানে দেখা হওয়ার পর তরুণী জানতে পারেন ভৈরব ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের সম্পর্ক আর এগিয়ে নিতে চান না। পরে ভৈরব তার বন্ধু সিএনজি চালক সোহেলকে বিষয়টি জানায়। সোহেল ভিকটিমের মা-বাবাকে ফোন করে সুনামগঞ্জে আসতে বলে। পরে মা-বাবা এসে তরুণীকে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে কিছুদিন পর আবার তরুণী সুনামগঞ্জে এসে সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক সোহেল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরের ওয়েজখালি এলাকায় নিজের বাড়িতে প্রায় ১৫-১৬ দিন রাখে। এ সময় তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১ মার্চ সোহেলের মায়ের সঙ্গে তরুণীর ঝগড়া হলে সোহেল তাকে তার বন্ধু সিএনজি চালক এরশাদের বাসায় রেখে যায়। পরে সোহেল সিলেটে চলে গেলে তরুণী তাকে ফোনে না পেয়ে এরশাদকে অনুরোধ করে তাকে তার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে। এরশাদ ও তার সহযোগী মাসুম তরুণীকে সিলেটে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে দিনের বেলায় একটি সিএনজির ভেতরে জোরপূর্বক তরুণীকে ধর্ষণ করে এরশাদ। এ সময় সিএনজি চালক মাসুম তাকে সহায়তা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
ধর্ষণের পর তরুণী কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্তরা তাকে একটি নির্জন বাসায় কিছু সময় আটকে রাখে। পরে সিএনজিতে করে তাকে শহরের ওয়েজখালি এলাকার জুয়েলের বাসায় নিয়ে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তরুণীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য নেয় এবং তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে অভিযুক্ত সিএনজি চালক এরশাদ, মাসুম ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষণের কাজে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি জানানো হলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও আইনি সহায়তার জন্য থানায় উপস্থিত হন।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ