সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায় : প্রধানমন্ত্রী হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতঙ্ক দোয়ারাবাজারে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস এসআই সুপ্রাংশু দে’র মৃত্যুতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি’র শোক শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের নবনির্মিত মন্দির উদ্বোধন আজ শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নোনাজলে ডুবে যাচ্ছে স্বপ্ন, ডুবে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ লক্ষাধিক গ্রাহকের ভোগান্তি ২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক ‎জামালগঞ্জে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ‎জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত সাচনা বাজারের বন্ধ হাসপাতাল চালুতে প্রশাসনিক সুপারিশ জে-স্কয়ারের অনন্য আয়োজন ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত যাদুকাটা বালু মহাল ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক পাগল হাসানের গান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবি বজ্রপাত কেড়ে নিল ৫ প্রাণ মন্ত্রী সাহেব প্রশংসা একটু কম, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বললেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল, আসছে বড় পরিবর্তন
বৃষ্টির জন্য হাহাকার

ফসলি জমি ফেটে চৌচির, দুশ্চিন্তায় কৃষক

  • আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১১:২০:১০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১১:২২:০৯ অপরাহ্ন
ফসলি জমি ফেটে চৌচির, দুশ্চিন্তায় কৃষক
শহীদনূর আহমেদ::
টানা প্রায় পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। পানির অভাবে ফসলি জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বোরো মৌসুমে এমন চরম পানি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। বৃষ্টির অভাবে হাওরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও হাহাকার। চলতি বোরো মৌসুম শুরুর পর থেকেই পানির সংকটে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে ধান চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেচের অভাবে অনেক ধানক্ষেতে দেখা দিয়েছে রোগবালাই। কোথাও খরায় ধানগাছ পুড়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও পোকামাকড়ে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে ফসল। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, জেলার অধিকাংশ হাওরে সেচ ব্যবস্থার তেমন সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক জলাধার ও বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেই বোরো আবাদ করতে হয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি অসময়ে জলমহাল শুকিয়ে ফেলার কারণে সেচ সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলি জমিতে চরম পানি সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, সেচ সংকট নিরসনে সরকারিভাবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় বোরো চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার খরচার হাওর ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতেই পানির তীব্র সংকট রয়েছে। হাওরের উজান এলাকার অনেক জমি পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সেচের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
বড়ঘাট এলাকার কৃষক নজির আলী জানান, তিনি ছয় খানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে গেছে, ধানগাছ লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৫০ বছর বয়সী এই কৃষক কোনো উপায় না পেয়ে সার ছিটিয়ে ধানগাছ বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। হতাশা প্রকাশ করে নজির আলী বলেন, “ধান রোপণের পর থেকেই জমিতে পানির সংকট। ভেবেছিলাম বৃষ্টি হবে, কিন্তু এতদিনেও মেঘ-বৃষ্টির দেখা নেই। ধানগাছ মরে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আমার মতো হাওরের অনেক কৃষকেরই একই অবস্থা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কিছু বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের বছরটি ব্যতিক্রম। এবারের বোরো মৌসুমে বৃষ্টিপাত হয়নি। বিভিন্ন হাওরে সেচের সংকট দেখা দিয়েছে। খরায় ধানগাছ আক্রান্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ধানগাছ পোকামাকড়ে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের সম্ভবানা রয়েছে। বৃষ্টি হলে ফসলি জমি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এদিকে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় হাওর এলাকার মাঠ-ঘাট শুকিয়ে গেছে। মাঠে ঘাস না জন্মানোয় গোখাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে গবাদিপশুর মালিকরাও পড়েছেন বিপাকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স