সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই
- আপলোড সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ০৪:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-০৩-২০২৬ ০৪:৫২:০৫ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বিশ্বম্ভরপুরে মতবিনিময় সভায় মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সকল ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সময়োপযোগী এবং জনমনে প্রত্যাশিত। হাওরাঞ্চলঘেরা সুনামগঞ্জে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার প্রধান অন্তরায় হিসেবে বহুদিন ধরেই মাদক ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো আলোচিত। তাই নির্বাচনী এলাকায় “কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না” - এই বার্তা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, প্রশাসনিক বাস্তবায়নের পরীক্ষাও বটে।
মাদক আজ কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি যুবসমাজের স্বপ্ন, পরিবার-প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনশীলতাকে গ্রাস করা এক নীরব মহামারী। হাওরাঞ্চলে মৌসুমি বেকারত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝরে পড়া, এবং সীমান্তবর্তী যোগাযোগের দুর্বলতা - এসব কারণে মাদক বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ মানে শুধু গ্রেপ্তার বা অভিযান নয়; এর সঙ্গে চাই গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, সীমান্ত ও নৌপথে সমন্বিত টহল, পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং সেবা, এবং স্কুল-কলেজভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি। শূন্য সহনশীলতা নীতি তখনই কার্যকর হবে, যখন তা সমানভাবে প্রযোজ্য হবে দল-পরিচয়, প্রভাব-প্রতিপত্তি বা অর্থবল কোনো ঢাল হতে পারবে না। চাঁদাবাজি ও অনিয়মের প্রশ্নেও একই কথা প্রযোজ্য। ঠিকাদারি কাজ, হাট-বাজার, পরিবহন কিংবা সরকারি সেবায় যদি অঘোষিত খরচের বোঝা চাপানো হয়, তার প্রভাব পড়ে নিত্যপণ্যের দামে, কৃষকের আয়ে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার টিকে থাকার সক্ষমতায়। তাই প্রশাসনকে দেওয়া নির্দেশনার পাশাপাশি দরকার স্বচ্ছতা-জবাবদিহির দৃশ্যমান ব্যবস্থা ই-টেন্ডারিংয়ের কঠোর প্রয়োগ, কাজের অগ্রগতি অনলাইনে প্রকাশ, সামাজিক নিরীক্ষা এবং অভিযোগ গ্রহণের নির্ভরযোগ্য হটলাইন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের গঠনমূলক নজরদারিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সংসদ সদস্য খাল খনন কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। হাওরাঞ্চলে খাল-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা মানে শুধু জলাবদ্ধতা নিরসন নয়; এটি বোরো ফসল রক্ষা, মৎস্যস¤পদ বৃদ্ধি ও নৌ-যোগাযোগ উন্নয়নের সঙ্গেও স¤পর্কিত। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলে সময়সীমা রক্ষা, কাজের গুণগত মান এবং প্রকল্প-নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সুফল টেকসই হয় না। সুনামগঞ্জের চলমান বাঁধ-নির্মাণ ও হাওর ব্যবস্থাপনার নানা আলোচনার প্রেক্ষাপটে খাল খনন যেন আরেকটি ‘কাগুজে সাফল্য’ না হয় - এটাই প্রত্যাশা।
এদিকে বিএনপি’র ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথাও বলেছেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল। আমরা মনে করি, সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে তথ্যভিত্তিক তালিকা, প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল যাচাই জরুরি। স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত হলে জনআস্থা বাড়বে; আর আস্থাই যে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল পুঁজি।
সবশেষে, এমপি নূরুল ইসলাম নূরুলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি। কিন্তু ঐক্য মানে সমালোচনা-বিমুখতা নয়; বরং গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণের সক্ষমতাই সুশাসনের শক্তি। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী, সুধীজন ও গণমাধ্যম সবাই যদি নিজ নিজ ভূমিকা দায়িত্বশীলভাবে পালন করেন, তবে মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ঘোষিত হুঁশিয়ারি বাস্তব সাফল্যে রূপ নিতে পারে।
কথার দৃঢ়তা জনমনে আশাবাদ জাগায়; এখন প্রয়োজন কর্মের দৃশ্যমান ফল। সুনামগঞ্জবাসী সেই ফলই দেখতে চায়- নিরাপদ সমাজ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের পথরেখা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়