সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

নতুন প্রজন্মের মাঝে সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিতে হবে

  • আপলোড সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ০৫:৫২:৫০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০৩-২০২৬ ০৫:৫২:৫০ পূর্বাহ্ন
নতুন প্রজন্মের মাঝে সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিতে হবে
ঋতুরাজ বসন্ত কেবল প্রকৃতির রঙিন রূপান্তরের বার্তাবাহক নয়, এটি মানুষের মনোজগতে নতুন প্রাণ, নতুন চেতনা ও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। এই বসন্তকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের সত্যশব্দ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র রবিবার (১ মার্চ) যে ‘রঙ উৎসব’-এর আয়োজন করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সমাজের সাংস্কৃতিক বিকাশে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে সংস্কৃতির বীজ বপনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রা মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে অনেকাংশে দুর্বল করে দিয়েছে। শিশু-কিশোররা ক্রমশ বই, কবিতা, গান ও শিল্পচর্চা থেকে দূরে সরে গিয়ে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় কাটাচ্ছে। এই বাস্তবতায় সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। রঙ উৎসবের মতো আয়োজন শিশুদের মাঝে আনন্দ, সৌন্দর্যবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনের ভিত্তি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই উৎসবে শিশু-কিশোরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার সুযোগ দিয়েছে। আবৃত্তি, নৃত্য ও সঙ্গীতের মতো সৃজনশীল কর্মকা- তাদের মননকে সমৃদ্ধ করে এবং ভবিষ্যতে একজন সচেতন, সংস্কৃতিমনা নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। এমন আয়োজন শিশুদের কেবল বিনোদন দেয় না, বরং তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এই ধরনের উৎসব সমাজে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদার করে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। সাংস্কৃতিক কর্মকা- মানুষকে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের পথে পরিচালিত করে। একটি সমাজ যত বেশি সংস্কৃতিমুখী হবে, তত বেশি মানবিক, সহনশীল ও সচেতন হয়ে উঠবে। সুনামগঞ্জ লোকসংস্কৃতি, সংগীত ও সাহিত্যচর্চার এক সমৃদ্ধ জনপদ। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। সত্যশব্দের মতো সংগঠনগুলো নিয়মিতভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি, বর্ষা ও শীতকালীন উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে যে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। তবে এই ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সমাজের সচেতন মহলকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে কেবল বিনোদন হিসেবে নয়, বরং জাতির মানসিক ও নৈতিক উন্নয়নের একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। পরিশেষে বলা যায়, বসন্তের এই রঙ উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সংস্কৃতি কেবল ঐতিহ্যের ধারক নয়, এটি মানবিক সমাজ নির্মাণের অন্যতম ভিত্তি। নতুন প্রজন্মের মাঝে সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিতে এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা সময়ের দাবি। কারণ, সংস্কৃতিমনা প্রজন্মই পারে একটি সুন্দর, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স