সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য তাহিরপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌপরিবহন ধর্মঘট, ব্যবসায় স্থবিরতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি মামলা করায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম, আইসিইউতে ২ হাছননগর সড়কের সংস্কারকাজ উদ্বোধন ঢলে ভেসে আসা কয়লা কুড়িয়েই চলে পাঁচ হাজার মানুষের জীবন সুবিপ্রবি’র নতুন ভিসি অধ্যাপক জাকির হুসাইন দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হবে ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ ও ‘বন্ধু রেজিস্টার’ সুবিপ্রবির উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার দুর্গম হাওরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন প্রতিমন্ত্রী হাওরাঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে স্বপ্নের উড়াল সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন ৩০ জুলাই বাবার পাশ থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ সেফটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার, আটক ৪ “ত্রাণ চাই না, বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী সমাধান চাই”

এক বছরে দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আমাদের নীরব ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি

  • আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৬ ১০:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৬ ১০:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
এক বছরে দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আমাদের নীরব ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি
বাংলাদেশ আজ এক গভীর ও উদ্বেগজনক সামাজিক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৫ সালে দেশে ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আমাদের পরিবার, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সমাজের সম্মিলিত ব্যর্থতার নির্মম প্রতিফলন। আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নীরবে ভেঙে পড়ছে, আর আমরা তা যথাসময়ে বুঝতে পারছি না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আত্মহত্যাকারীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুলশিক্ষার্থী। অর্থাৎ কৈশোরের সূচনালগ্নেই অনেক শিশু এমন মানসিক সংকটে পড়ছে, যেখান থেকে তারা মুক্তির পথ হিসেবে আত্মহননকেই বেছে নিচ্ছে। এই বয়সে শিক্ষার্থীরা আবেগগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কার্যকর কোনো কাঠামোগত উদ্যোগ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল, প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক প্রত্যাশার চাপ থাকলেও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত। সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে হতাশা, অভিমান, প্রেমঘটিত সমস্যা এবং পারিবারিক টানাপোড়েন কাজ করছে। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, শিক্ষার্থীরা তাদের আবেগ ও সংকট নিয়ে কথা বলার মতো নিরাপদ পরিবেশ পাচ্ছে না। পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে মানসিক যোগাযোগের অভাব, কঠোর প্রত্যাশা এবং আবেগগত অবহেলা তাদের ভেতরে গভীর নিঃসঙ্গতা তৈরি করছে। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি হওয়া আমাদের সামাজিক বাস্তবতার আরেকটি কঠিন সত্য তুলে ধরে। মেয়েরা এখনও সামাজিক বিধিনিষেধ, পারিবারিক চাপ এবং সম্পর্কজনিত সংকটে বেশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের চাপ আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও ব্যাপক কুসংস্কার ও সামাজিক লজ্জা বিদ্যমান। মানসিক সমস্যাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার আগেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তন বুঝতে পারেন এবং সময়মতো সহায়তা দিতে পারেন। তৃতীয়ত, সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের যন্ত্র হিসেবে নয়, একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে দেখতে শিখতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের সমাজের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ প্রতিটি হারানো জীবন মানে একটি সম্ভাবনার মৃত্যু, একটি স্বপ্নের সমাপ্তি এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের ক্ষয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি

ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি