সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফসলি জমি ফেটে চৌচির, দুশ্চিন্তায় কৃষক জামালগঞ্জে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার ‎জামালগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোরের মৃত্যু ছাড়ের অপেক্ষায় আ.লীগ নারায়ণগঞ্জে এনসিপি’র এমপি দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ সরকারি কর্মচারীদের সকালে ৪০ মিনিট অফিসে অবস্থান বাধ্যতামূলক দিরাইয়ের তিন গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড পেতে যাচ্ছে ৭৮৫ পরিবার ছাতক-দোয়ারাকে অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবো : এমপি কলিম উদ্দিন টাকার লোভে নদীর পাড় বিক্রি : সোনালীচেলার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রাম জনবল সংকটে ধুঁকছে হাসপাতাল সেবাবঞ্চিত মানুষ অভিনন্দন সংবলিত বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েলের সঙ্গে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধের’ ঘোষণা দিলো হিজবুল্লাহ পাড় কেটে বালু উত্তোলন : ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ ৩ জনকে ধরিয়ে দিল জনতা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জকে এগিয়ে নিয়ে যাবো : এমপি নূরুল ইসলাম দুর্গম যাত্রায় অপার সম্ভাবনার হাতছানি জামালগঞ্জে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে মসজিদ, মাছ বাজার ও দোকানপাট মাদক, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন এমপি নূরুল ইসলাম শিশুদের রোজা : শৈশব থেকেই অভ্যস্ত করবেন যেভাবে ব্রি’র ‘রাইস মিউজিয়াম’ ঘিরে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন, এক জমিতেই ৫১ জাতের ধান সব সামলাচ্ছেন ইউএনও অফিসের নাজির ও পিয়ন!

এক বছরে দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আমাদের নীরব ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি

  • আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৬ ১০:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৬ ১০:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
এক বছরে দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আমাদের নীরব ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি
বাংলাদেশ আজ এক গভীর ও উদ্বেগজনক সামাজিক সংকটের মুখোমুখি। ২০২৫ সালে দেশে ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আমাদের পরিবার, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সমাজের সম্মিলিত ব্যর্থতার নির্মম প্রতিফলন। আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নীরবে ভেঙে পড়ছে, আর আমরা তা যথাসময়ে বুঝতে পারছি না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আত্মহত্যাকারীদের প্রায় অর্ধেকই স্কুলশিক্ষার্থী। অর্থাৎ কৈশোরের সূচনালগ্নেই অনেক শিশু এমন মানসিক সংকটে পড়ছে, যেখান থেকে তারা মুক্তির পথ হিসেবে আত্মহননকেই বেছে নিচ্ছে। এই বয়সে শিক্ষার্থীরা আবেগগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে। অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কার্যকর কোনো কাঠামোগত উদ্যোগ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল, প্রতিযোগিতা এবং সামাজিক প্রত্যাশার চাপ থাকলেও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা প্রায় অনুপস্থিত। সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, আত্মহত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে হতাশা, অভিমান, প্রেমঘটিত সমস্যা এবং পারিবারিক টানাপোড়েন কাজ করছে। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, শিক্ষার্থীরা তাদের আবেগ ও সংকট নিয়ে কথা বলার মতো নিরাপদ পরিবেশ পাচ্ছে না। পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে মানসিক যোগাযোগের অভাব, কঠোর প্রত্যাশা এবং আবেগগত অবহেলা তাদের ভেতরে গভীর নিঃসঙ্গতা তৈরি করছে। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি হওয়া আমাদের সামাজিক বাস্তবতার আরেকটি কঠিন সত্য তুলে ধরে। মেয়েরা এখনও সামাজিক বিধিনিষেধ, পারিবারিক চাপ এবং সম্পর্কজনিত সংকটে বেশি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের চাপ আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও ব্যাপক কুসংস্কার ও সামাজিক লজ্জা বিদ্যমান। মানসিক সমস্যাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার আগেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তন বুঝতে পারেন এবং সময়মতো সহায়তা দিতে পারেন। তৃতীয়ত, সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের যন্ত্র হিসেবে নয়, একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে দেখতে শিখতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের পাশে থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের সমাজের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ প্রতিটি হারানো জীবন মানে একটি সম্ভাবনার মৃত্যু, একটি স্বপ্নের সমাপ্তি এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের ক্ষয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স