সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব তাহিরপুরে নামমাত্র শিশু পার্ক, দুই বছরেও চালু হয়নি কার্যক্রম জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠল গাগলী সুপার লীগ সিজন-৪ এর এইচএসসিতে সুনামগঞ্জের দুই কলেজে পাস করেনি কেউ শাল্লায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ তাহিরপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, অর্ধেকই ফেল, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রতিবাদে সোচ্চার বিএনপি নেতাকর্মীরা ফ্যামিলি কার্ডে টাকা দাবি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাঠে তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী স্ত্রী আটকের পর অসুস্থ ছাত্রলীগ নেতা, পরিবারের দাবি নির্যাতন, পুলিশের অস্বীকার ঐতিহাসিক বাঁশতলায় নান্দনিক স্থাপনার নামকরণ নিয়ে ক্ষোভ

শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, উৎকণ্ঠায় কৃষক

  • আপলোড সময় : ২৮-০২-২০২৬ ১০:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০২-২০২৬ ১০:৩৯:২৫ পূর্বাহ্ন
শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, উৎকণ্ঠায় কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার::
কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও তাহিরপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে এখনও অনেক বাঁধের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। এতে আগাম বন্যার আশঙ্কায় বোরো ধান নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় এবার ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নির্মাণ হচ্ছে। কাজের সময় ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি গড়ে ৭৮ শতাংশ। জাতীয় নির্বাচনের কারণে কাজে কিছুটা ধীর গতি ছিল। মাটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। কাজের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হবে।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি হাওরে চলতি মৌসুমে ৮৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)-এর মাধ্যমে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। গত বছর এ বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৩ কোটি টাকা। বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় সচেতন মহল ও কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তাহিরপুরের ২৩টি হাওরে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তবে বাঁধ নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হওয়ায় একমাত্র বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হাওরপাড়ের কৃষক রাজু আহমেদ বলেন, বাঁধে অনিয়মের অভিযোগ করলেও সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দেন না। হাওরের একমাত্র ফসল এই বোরো ধান। বাঁধ ভেঙে গেলে হাজার হাজার কৃষক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে। শনির হাওরের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি। কিন্তু বাঁধের কাজ এখনও শেষ হয়নি। ধান পানিতে তলিয়ে গেলে আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব?
মাটিয়ান হাওরের কৃষক শাকিল মিয়া বলেন, বোরো ধানই আমাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। প্রতি বছর বাঁধের কাজ নিম্মমানের হওয়ায় ফসল হারানোর শঙ্কায় থাকতে হয়।
তাহিরপুর হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মিল হক নাসরুম বলেন, আমরা বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করে দেখেছি, অনেক বাঁধের কাজ এখনও সন্তোষজনক নয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। দ্রুত কাজ শেষ না হলে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন অভিযোগ করে বলেন, পিআইসি গঠনে অনিয়ম, পুরাতন বাঁধে সামান্য মাটি দিয়ে সংস্কারের নামে বিল উত্তোলনের চেষ্টা, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেরিতে কাজ শুরু এবং সংরক্ষিত এলাকা থেকে মাটি কাটার মতো ঘটনা ঘটছে। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি আরও জানান, তাহিরপুর ছাড়াও মধ্যনগর, ধর্মপাশা, শাল্লা, দিরাই, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে বাঁধ নির্মাণ কাজের ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলার ৮১ নম্বর পিআইসির সভাপতি রায়হান উদ্দিন বলেন, আমার দায়িত্বে থাকা বাঁধের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে।
তাহিরপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মনির হোসেন বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাটির কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে পিআইসিদের এখন পর্যন্ত মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় কাজের গতি কিছুটা কম রয়েছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত বোরো চাষাবাদে কোনো সমস্যা নেই। তবে ফসল রক্ষায় বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জ জেলার হাওরগুলোতে বোরো ধানই একমাত্র প্রধান ফসল। আগাম পাহাড়ি ঢল ও বন্যা থেকে এ ফসল রক্ষায় সময়মতো এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক