সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক

বাঁধের কাজে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : পানিসম্পদ মন্ত্রী

  • আপলোড সময় : ২৮-০২-২০২৬ ১০:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০২-২০২৬ ১০:৩৬:০৮ পূর্বাহ্ন
বাঁধের কাজে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : পানিসম্পদ মন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজে যাতে দুর্নীতি না হয়, সে জন্য সরকার পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, সরকার সতর্ক আছে। এলাকার মানুষও সচেতন। বাঁধ নির্মাণে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
শুক্রবার দুপুরে তিনি জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলায় বিভিন্ন হাওরে বাঁধের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কৃষক ও সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধের কাজ স¤পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলে প্রচুর শস্য উৎপাদন হয়। এ অঞ্চল দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্জনে ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত হাওরাঞ্চলের খোঁজখবর রাখছেন। তাঁর নির্দেশনাতেই আমরা হাওর এলাকায় বাঁধের কাজ পরিদর্শনে এসেছি। মানুষের সঙ্গে কথা বলছি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী আরও বলেন, ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে হাওরের ফসলের সুরক্ষা দিয়ে আসছে সরকার। বিগত সময়ে বাঁধ নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে সতর্ক আছে। হাওরে এসব উদ্যোগ যেন দুর্নীতির কারণে সরকারের বদনাম না হয়, সে জন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক কর্মী ও নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। নদী ও খাল খনন প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকার খাল ও নদী খননের ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খননকাজ করা হবে। সরকার জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, এসব কাজে যেন দুর্নীতি না হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রীর বাঁধ পরিদর্শনকালে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কায়সার আলম, সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় এবার ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নির্মাণ হচ্ছে। কাজের সময় ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি গড়ে ৭৮ শতাংশ। জাতীয় নির্বাচনের কারণে কাজে কিছুটা ধীর গতি ছিল। মাটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। কাজের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হবে। তবে হাওরে কৃষকদের পক্ষে সোচ্চার ব্যক্তি ও কৃষকেরা বলছেন, বাঁধের কাজ এখনো অর্ধেকও হয়নি। পাউবোর কাগুজে হিসাবের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বাঁধের কাজে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এবারও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে না। এতে ফসল ঝুঁকিতে পড়বে। সুনামগঞ্জে হাওরে একসময় ঠিকাদারদের মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ হতো। ২০১৭ সালে হাওরে ব্যাপক ফসলহানির পর বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরে বাঁধ নির্মাণে নতুন নীতিমালা করে। এতে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয় ঠিকাদারদের। কাজে সরাসরি যুক্ত করা হয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে। উপজেলা কমিটি প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন করে পাঠায় জেলা কমিটিতে। পরে জেলা কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য প্রকৃত কৃষক ও স্থানীয় সুবিধাভোগীদের নিয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) থাকে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকার কাজ করতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু