সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, সুনামগঞ্জে যুবদলের মিছিল সমাবেশ ‎বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরের সড়কজুড়ে শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ ‎জাতিসংঘে তারেকের প্রথম ভাষণ, সামনে বাংলাদেশের নতুন বার্তা ‎বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনসাধারণের ক্ষোভ তাহিরপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বহিষ্কার সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব থামেনি সাদাসিধে জীবন, আলোকিত কর্মযাত্রা নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদরে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন ফারুকীকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুটবল উৎসব উদ্বোধন প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন সফর সংক্ষিপ্ত, কূটনৈতিক কর্মসূচি বিস্তৃত: নিউইয়র্কে তারেক রহমান নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি ঢাকা-সিলেট সড়কের ৬ লেনের নির্মাণকাজ শেষ হবে ২৯ সালে : সড়কমন্ত্রী দিরাই সরকারি ডিগ্রি  কলেজে ‎"অধ্যক্ষ বিহীন ১৭ বছর" ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক উন্নয়নে ১৭৪ কোটি টাকার কাজ উদ্বোধন ভিপি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম

ছাতকে ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য, চরম দুর্ভোগে মানুষ

  • আপলোড সময় : ২৮-০২-২০২৬ ১০:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০২-২০২৬ ১০:৪১:১৭ পূর্বাহ্ন
ছাতকে ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য, চরম দুর্ভোগে মানুষ
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী::
ছাতক উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পানিসংকট। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়া, তাপদাহ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ছাতক উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫৩১টি গ্রামের মধ্যে তিন শতাধিক গ্রামে এখন তীব্র পানিসংকট বিরাজ করছে। উপজেলার প্রায় ১৮ হাজার টিউবওয়েলের মধ্যে অন্তত ১২ হাজার টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২০০ থেকে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাতগাঁও, কালারুকা, চরমহল্লা, সিংচাপইড়, দোলারবাজার, ছৈলা-আফজলাবাদ, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, উত্তর ও দক্ষিণ খুরমা, নোয়ারাই, ইসলামপুর, ছাতক সদর ও জাউয়াবাজার ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। টিউবওয়েল চাপলেও পানি না আসায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেকে দূষিত পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করছেন, ফলে ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে। জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মুলতানপুর গ্রামের ক্বারী মাওলানা জুনায়েদ আহমদ জানান, ১৫ বছর আগে ৫০০ ফুট গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, এখন ৭০০ ফুটেও নিশ্চিত নয়। দিনে বহুবার চাপ দিলেও টিউবওয়েলে পানি ওঠে না। উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গিলাছড়া গ্রামের গাড়িচালক আরজদ আলী বলেন, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পুকুরের পানি ফুটিয়ে খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষক জানান, মাসখানেক ধরে স্কুলের কোনো টিউবওয়েলে পানি নেই। শিক্ষার্থীরা তৃষ্ণায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল দখল, পুকুর ভরাট, হাওর-বিলের প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস এবং নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে গেছে। এছাড়া সরকারি গভীর নলকূপ বরাদ্দেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জনস্বার্থে স্থাপনের পরিবর্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় নলকূপ বসানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইছহাক আলী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে নেমে গেছে। আগে যেখানে ৪০০ ফুটে পানি পাওয়া যেত, এখন ৭০০ ফুটেও পাওয়া অনিশ্চিত। সরকারিভাবে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, পানি সংকটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ