সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

মামলাবাজি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

  • আপলোড সময় : ২৪-০২-২০২৬ ০৯:০৬:২১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০২-২০২৬ ০৯:০৬:২১ অপরাহ্ন
মামলাবাজি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কর্তৃক ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া একটি সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন, যা মামলার অপব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ব্যক্তিগত স্বার্থে এবং প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সমাজের স্বনামধন্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এ ধরনের প্রবণতা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতিই করে না, বরং সামগ্রিকভাবে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করে। আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার যেমন সকলের আছে, তেমনি আইনের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব কমিটি নয়, বরং বাংলাদেশ পুলিশের ওপরই ন্যস্ত করা হয়েছে। এটি একদিকে পুলিশের প্রতি সরকারের আস্থা প্রকাশ করে, অন্যদিকে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার পরীক্ষাও বটে। পুলিশের দায়িত্ব হবে নিরপেক্ষভাবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে মুক্তি নিশ্চিত করা। তবে শুধু নির্দেশনা প্রদান করাই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সময় এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিলম্ব বা অনীহা দেখা দেয়। ফলে প্রয়োজন সুস্পষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে যেন মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের প্রবণতা কমে, সে জন্য আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও কঠোর করা জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা মানে শুধু অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং নির্দোষ ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও। সমাজের কোনো ব্যক্তি, তিনি সাংবাদিক, ব্যবসায়ী বা সাধারণ নাগরিক - যেই হোন না কেন, আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন। আইনের অপব্যবহার রোধ করা গেলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে। এখন সময় এসেছে, ঘোষণার বাইরে গিয়ে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করার - এই রাষ্ট্রে আইনের শাসন শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং একটি বাস্তব সত্য।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স