সুনামগঞ্জ , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘ অধিবেশন : ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নামমাত্র চারা লাগিয়ে বরাদ্দ লুটপাটের আয়োজন উকিলপাড়ার পুকুর যেন ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচ নিয়ে সংঘাতের শঙ্কা বিশ্বম্ভরপুরে হিজল বাগান উজাড়, কাটা হলো ৬২টি গাছ ছাতকে ফোরলেন সড়কের কাজ উদ্বোধন করলেন এমপি কলিম উদ্দিন মিলন ‎জামালগঞ্জে বিএনপি নেতা জালাল উদ্দীন ফারুকীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ দিরাইয়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪ জামালগঞ্জে বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অধ্যাপক ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস সরলতার ভুবনে সজ্জন মানুষ সার পাচারে জড়িত ডিলাররা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নিষিদ্ধ জালে বিপন্ন দেশি মাছ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা নৃত্যম নৃত্যালয়ের নৃত্য কর্মশালা সম্পন্ন বাউল সম্রাটকে স্মরণ করলো সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদ দিরাই প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ ভ্যাপসা গরমে চরম দুর্ভোগ, ব্যাহত ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ-বিড়িসহ আটক ১ নতুন যোগ্য নৃত্যশিল্পীদের মাঝে নাচের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে চাই দিরাইয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সমাবেশ

মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব

  • আপলোড সময় : ২৩-০২-২০২৬ ০৯:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০২-২০২৬ ১০:০৯:০০ পূর্বাহ্ন
মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব
ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। চর্চার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘাটতি এবং মূলধারার ভাষার প্রভাবের কারণে প্রজন্মান্তরে এসব ভাষার ব্যবহার ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই ও মনিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু এসব ভাষা আজ পরিবারকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্ম বিদ্যালয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকা-ে বাংলা ভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ফলে মাতৃভাষার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে শুধু ভাষাই নয়, হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে একটি জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয়। ভাষা সংরক্ষণে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো শিক্ষা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আদিবাসী শিশুদের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় কোনো পাঠ্যপুস্তক নেই। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মাতৃভাষার কোনো স্থান না থাকায় শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নিজ ভাষা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাষা শেখার জন্য কোনো চর্চা কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। ভাষার বৈচিত্র্য একটি দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ শুধু তাদের স্বার্থেই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা জরুরি। আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগে। এছাড়া সমাজের মূলধারার মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, যাতে কেউ নিজের মাতৃভাষায় কথা বলার কারণে উপহাস বা অবজ্ঞার শিকার না হন। ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই একটি সভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের পরিচায়ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এসব ভাষার নাম শুধু বইয়ের পাতায় খুঁজে পাবে। তাই এখনই সময়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের। কারণ ভাষা হারানো মানে একটি জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় হারানো - যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
জাতিসংঘ অধিবেশন : ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশন : ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী