সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণ, নদীপথে স্বাভাবিক হচ্ছে পণ্য পরিবহন সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য তাহিরপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌপরিবহন ধর্মঘট, ব্যবসায় স্থবিরতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি মামলা করায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম, আইসিইউতে ২ হাছননগর সড়কের সংস্কারকাজ উদ্বোধন ঢলে ভেসে আসা কয়লা কুড়িয়েই চলে পাঁচ হাজার মানুষের জীবন সুবিপ্রবি’র নতুন ভিসি অধ্যাপক জাকির হুসাইন দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হবে ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ ও ‘বন্ধু রেজিস্টার’ সুবিপ্রবির উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার দুর্গম হাওরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন প্রতিমন্ত্রী হাওরাঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে

মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব

  • আপলোড সময় : ২৩-০২-২০২৬ ০৯:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০২-২০২৬ ১০:০৯:০০ পূর্বাহ্ন
মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব
ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। চর্চার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘাটতি এবং মূলধারার ভাষার প্রভাবের কারণে প্রজন্মান্তরে এসব ভাষার ব্যবহার ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই ও মনিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু এসব ভাষা আজ পরিবারকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্ম বিদ্যালয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকা-ে বাংলা ভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ফলে মাতৃভাষার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে শুধু ভাষাই নয়, হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে একটি জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয়। ভাষা সংরক্ষণে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো শিক্ষা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আদিবাসী শিশুদের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় কোনো পাঠ্যপুস্তক নেই। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মাতৃভাষার কোনো স্থান না থাকায় শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নিজ ভাষা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাষা শেখার জন্য কোনো চর্চা কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। ভাষার বৈচিত্র্য একটি দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ শুধু তাদের স্বার্থেই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা জরুরি। আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগে। এছাড়া সমাজের মূলধারার মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, যাতে কেউ নিজের মাতৃভাষায় কথা বলার কারণে উপহাস বা অবজ্ঞার শিকার না হন। ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই একটি সভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের পরিচায়ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এসব ভাষার নাম শুধু বইয়ের পাতায় খুঁজে পাবে। তাই এখনই সময়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের। কারণ ভাষা হারানো মানে একটি জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় হারানো - যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪

ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪