সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি

মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব

  • আপলোড সময় : ২৩-০২-২০২৬ ০৯:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০২-২০২৬ ১০:০৯:০০ পূর্বাহ্ন
মাতৃভাষা হারালে হারাবে সংস্কৃতির অস্তিত্ব
ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। চর্চার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘাটতি এবং মূলধারার ভাষার প্রভাবের কারণে প্রজন্মান্তরে এসব ভাষার ব্যবহার ক্রমেই কমে যাচ্ছে। খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই ও মনিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু এসব ভাষা আজ পরিবারকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন প্রজন্ম বিদ্যালয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকা-ে বাংলা ভাষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ফলে মাতৃভাষার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে শুধু ভাষাই নয়, হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে একটি জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয়। ভাষা সংরক্ষণে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো শিক্ষা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আদিবাসী শিশুদের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় কোনো পাঠ্যপুস্তক নেই। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মাতৃভাষার কোনো স্থান না থাকায় শিশুরা ছোটবেলা থেকেই নিজ ভাষা শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভাষা শেখার জন্য কোনো চর্চা কেন্দ্র বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। ভাষার বৈচিত্র্য একটি দেশের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ শুধু তাদের স্বার্থেই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা জরুরি। আদিবাসী ভাষায় প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগে। এছাড়া সমাজের মূলধারার মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, যাতে কেউ নিজের মাতৃভাষায় কথা বলার কারণে উপহাস বা অবজ্ঞার শিকার না হন। ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনই একটি সভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের পরিচায়ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্ম হয়তো এসব ভাষার নাম শুধু বইয়ের পাতায় খুঁজে পাবে। তাই এখনই সময়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের। কারণ ভাষা হারানো মানে একটি জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় হারানো - যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর