সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

রমযান : আত্মশুদ্ধির মাস, আলোর পথের আহ্বান

  • আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন
রমযান : আত্মশুদ্ধির মাস, আলোর পথের আহ্বান
মুফতি হাম্মাদ আহমদ মুহাদ্দিসে গাজিনগরী::> পবিত্র ইসলামের মহান শিক্ষায় মানুষকে কেবল ইবাদতের পথ দেখানো হয়নি; বরং জীবনকে সুন্দর, সংযত, শুদ্ধ ও মানবিক করে তোলার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রমযান মাস সেই শিক্ষারই এক উজ্জ্বল বাস্তবায়ন। এ মাস এমন এক বরকতময় ঋতু, যখন বান্দার আত্মা জেগে ওঠে, অন্তর আলোয় ভরে যায় এবং জীবন নতুনভাবে সুশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। রমযান কেবল ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করার নাম নয়; বরং এটি ধৈর্য, আত্মসংযম, নৈতিকতা ও তাকওয়ার এক মহিমান্বিত প্রশিক্ষণ। মানুষ যখন দিনের পর দিন নিজের স্বাভাবিক চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তখন তার আত্মা শক্তিশালী হয়, চরিত্র উন্নত হয় এবং সে বুঝতে পারে - ইচ্ছার দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়াই প্রকৃত স্বাধীনতা। রমযানের তাৎপর্য ও মর্যাদা : রমযান মাসের মর্যাদা ইসলামের ইতিহাসে সর্বাধিক উচ্চ। এ মাসের মধ্যেই আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত আল-কুরআন নাযিল করেছেন। কুরআনের আগমন মানবজাতির জন্য রহমত, হেদায়েত এবং মুক্তির পথ। রমযান মাসে রয়েছে এমন এক মহিমান্বিত রজনী - লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রজনীর মহিমা এতই গভীর যে একজন মুমিনের জীবনের সমস্ত সাধনা যেন এই এক রাতেই আল্লাহর বিশেষ রহমতের ছায়ায় পৌঁছে যায়। এ মাসে আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয় - যাতে বান্দা সহজে নেকির পথে অগ্রসর হতে পারে এবং গুনাহের বন্ধন ছিন্ন করে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে পারে। রমযানের শিক্ষা: মানবিকতা ও সহানুভূতির জাগরণ - রমযানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। ধনী যখন উপবাস থাকে, তখন সে দরিদ্রের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। ক্ষুধা মানুষকে শিখিয়ে দেয় দারিদ্র্য কী, অনাহার কী এবং অসহায়তার যন্ত্রণা কতটা গভীর। রমযান আমাদের অন্তরে দয়া, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের জন্ম দেয়। এ মাস যেন মানবতার এক নীরববিপ্লব— - যেখানে ধনীর হৃদয় নরম হয়, অহংকার গলে যায়, এবং সমাজের নিঃস্ব মানুষগুলোর জন্য ভালোবাসা ও সহযোগিতার দরজা খুলে যায়। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে রমযান কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং এটি সমাজ সংস্কার ও মানবিক মূল্যবোধ পুনর্জাগরণের এক সুবর্ণ সময়। রমযান মাসকে কাজে লাগানোর কিছু অনন্য উপায় : রমযানের সময় দ্রুত চলে যায় - একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। তাই এ মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো একজন মুমিনের দায়িত্ব। এ মাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যা বান্দার ইহকাল ও পরকালের মুক্তির পথ সহজ করে দেয়। প্রথমত, রমযানের মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন। এজন্য নিজের নফসকে সংযত করতে হবে, গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা হৃদয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি সর্বাধিক যতœবান হতে হবে। সম্ভব হলে জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হবে এবং নফল ইবাদত বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, কুরআনের সঙ্গে স¤পর্ক গভীর করতে হবে। রমযান কুরআনের মাস - তাই প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত, অর্থ অনুধাবন এবং বাস্তব জীবনে তার শিক্ষা প্রয়োগ করার চেষ্টা করা জরুরি। চতুর্থত, সেহরি ও ইফতারের সময়কে দোয়া ও ইবাদতের সুবর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। পঞ্চমত, দান-সদকা ও অসহায় মানুষের সাহায্যে অগ্রণী হতে হবে। আল্লাহ তাআলা এ মাসে নেকির প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। তাই গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো রমযানের প্রকৃত সৌন্দর্য। ষষ্ঠত, পরিবারের প্রতি সদাচরণ ও ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন। কারণ রমযান শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; এটি আচরণ সংশোধনের মাস। ঘরের পরিবেশ সুন্দর রাখা, সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করাও রমযানের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সপ্তমত, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালন করা উচিত। সমাজে কেউ অভুক্ত থাকলে, কারো কষ্ট থাকলে তা লাঘব করার চেষ্টা করা একজন মুমিনের কর্তব্য। অষ্টমত, সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ রাখা, তাওবা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। কারণ রমযান হলো গুনাহ মাফের মাস। এ মাসে আল্লাহর রহমতের দরজা প্রশস্তভাবে খোলা থাকে। রমযান: জীবন বদলে দেওয়ার এক অনন্য সুযোগ - রমযান এমন এক মাস, যা মানুষকে বদলে দেয়-যদি মানুষ সত্যিই বদলাতে চায়। এই মাসে বান্দার অন্তর আলোর দিকে ঝুঁকে পড়ে, আত্মা পবিত্র হতে থাকে এবং হৃদয়ে জন্ম নেয় পরিশুদ্ধতার এক নির্মল অনুভূতি। যে ব্যক্তি রমযানকে কেবল আনুষ্ঠানিক উপবাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে, সে রমযানের আসল শিক্ষা হারিয়ে ফেলে। আর যে ব্যক্তি এ মাসকে আত্মগঠনের মাধ্যম বানায়, তার জীবনে রমযান হয়ে ওঠে পরিবর্তনের মহান অধ্যায়। রমযান আমাদের শেখায়- মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আর এই সন্তুষ্টি অর্জনের পথ হলো ঈমান, ইবাদত, চরিত্র, মানবিকতা ও আত্মশুদ্ধি। আসুন, আমরা এই রমযানকে নিছক একটি মাস নয় - বরং জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক বরকতময় সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদেরকে রমযানের প্রকৃত শিক্ষা উপলব্ধি করার তাওফিক দান করেন এবং আমাদের জীবনকে তাকওয়ার আলোয় আলোকিত করেন - আমিন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স