সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগাম বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা : হাওরের পাকা ধান দ্রুত কর্তনের অনুরোধ বোরো চাষে বাড়তি খরচ, ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক ডিজেল সংকটে বেড়েছে হারভেস্টারের ভাড়া, বিপাকে হাওরাঞ্চলের কৃষক এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি : ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায় : প্রধানমন্ত্রী হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতঙ্ক দোয়ারাবাজারে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস এসআই সুপ্রাংশু দে’র মৃত্যুতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি’র শোক শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের নবনির্মিত মন্দির উদ্বোধন আজ শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নোনাজলে ডুবে যাচ্ছে স্বপ্ন, ডুবে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ লক্ষাধিক গ্রাহকের ভোগান্তি ২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক ‎জামালগঞ্জে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ‎জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত সাচনা বাজারের বন্ধ হাসপাতাল চালুতে প্রশাসনিক সুপারিশ জে-স্কয়ারের অনন্য আয়োজন ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত যাদুকাটা বালু মহাল ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা
মাতৃভাষা রক্ষায় পৃথক পাঠ্যপুস্তক ও চর্চা কেন্দ্রের দাবি

বিলুপ্তির পথে সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা

  • আপলোড সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৩:১৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০২-২০২৬ ০২:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
বিলুপ্তির পথে সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা
শহীদনূর আহমেদ ::
চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাবে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মাতৃভাষা বিলুপ্তির পথে। পরিবারকেন্দ্রিক সীমিত ব্যবহারের বাইরে এসব ভাষার চর্চা না থাকায় নতুন প্রজন্ম ক্রমেই নিজস্ব ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মাতৃভাষা রক্ষায় পৃথক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী নেতৃবৃন্দ। জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী ছাতক, দোয়ারাবাজার, সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। এসব এলাকার খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমা, বানাই, মনিপুরি প্রভৃতি সম্প্রদায়ের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি। তবে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং মাতৃভাষা শিক্ষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় এসব ভাষা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে প্রবীণরা এখনো নিজেদের ভাষায় কথা বললেও নতুন প্রজন্মের অনেকেই মাতৃভাষায় কথা বলতে পারে না। ভাষা শেখার জন্য কোনো চর্চা কেন্দ্র বা পাঠ্যপুস্তক না থাকায় শিশুরা বিদ্যালয়ে এবং সামাজিক পরিসরে বাংলা ভাষার ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আদিবাসী শিক্ষার্থীরা জানান, পরিবার ছাড়া অন্য কোথাও মাতৃভাষায় কথা বলার সুযোগ নেই। অনেক সময় প্রকাশ্যে মাতৃভাষায় কথা বললে উপহাস ও কটূক্তির শিকার হতে হয়। ফলে তারা নিজেদের ভাষা ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে। এতে ধীরে ধীরে ভাষার শব্দভা-ার ও ব্যবহার হারিয়ে যাচ্ছে। আদিবাসী শিক্ষকরা বলেন, বিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকায় আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষা বিষয়ক কোনো বই নেই। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় অন্তত একটি পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে এবং ভাষা সংরক্ষণ সহজ হবে। তাহিরপুর উপজেলার আদিবাসী নেত্রী ডনবকমন নংউড়া বলেন, পাহাড় ও সমতলে বসবাসরত প্রতিটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। কিন্তু ভাষা শেখার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় তা পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বয়োজ্যেষ্ঠরা মারা গেলে ভাষার অনেক শব্দ ও ব্যবহার চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক স¤পাদক এন্ড্রো সলোমার বলেন, চর্চার অভাবে আমাদের অনেক মাতৃভাষা বিলুপ্তির পথে। ভাষা সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসী ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, একটি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকে থাকে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সুনামগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বহু প্রাচীন মাতৃভাষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কেবল ইতিহাস হয়ে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স