সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক

রোযা : ঐতিহাসিক পটভূমি ও রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি

  • আপলোড সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১১:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১১:৩২:৩২ পূর্বাহ্ন
রোযা : ঐতিহাসিক পটভূমি ও রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি
মুফতি হাম্মাদ আহমদ মুহাদ্দিসে গাজিনগরী::
রমযান মাস রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাত ও আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসের কেন্দ্রীয় ইবাদত রোযা - যা কেবল উপবাসে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আত্মসংযম, নৈতিক পরিশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের এক অনন্য সাধনা। রোযার ইতিহাস যেমন সুপ্রাচীন, তেমনি রমজানের সঠিক প্রস্তুতিও এর পূর্ণ ফজিলত অর্জনের জন্য অপরিহার্য। রোযার ঐতিহাসিক পটভূমি : ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হযরত আদম (আ.) থেকে হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবী-রাসুল কোনো না কোনোভাবে রোযা বা উপবাস পালন করেছেন। প্রাথমিক যুগে রোযার ধরন বর্তমান মাসব্যাপী রোযার মতো ছিল না। হযরত আদম (আ.) থেকে হযরত নূহ (আ.) পর্যন্ত চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখা হতো, যা ‘আইয়ামে বিজ’ নামে পরিচিত। ইসলামের প্রাথমিক সময়েও তিন দিন রোযা রাখার বিধান ছিল। পরবর্তীতে হিজরির দ্বিতীয় বছরে উম্মতে মুহাম্মদী (সা.)-এর ওপর পূর্ণ এক মাস রোযা ফরজ করা হয়। হযরত মূসা (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে তাওরাত প্রাপ্তির আগে টানা চল্লিশ দিন পানাহার ত্যাগ করেছিলেন। হযরত ঈসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরাও উপবাস পালন করতেন। ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মে উপবাসের বিধান থাকলেও তা ইসলামের রোযার মতো নির্দিষ্ট নিয়মাবদ্ধ ছিল না। তবুও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় - জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ আত্মশুদ্ধি ও সংযমের জন্য উপবাসকে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হিসেবে গ্রহণ করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর দেখেন, ইহুদিরা আশুরার দিনে রোযা রাখে। কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, এ দিনে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলকে শত্রুর কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আমি মূসা (আ.)-এর তোমাদের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।” অতঃপর তিনি নিজে আশুরার রোযা পালন করেন এবং সাহাবিদেরও তা পালনের নির্দেশ দেন। রমজানের আগে প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা : রমযান হঠাৎ এসে পড়ে না; বরং সচেতন প্রস্তুতির মাধ্যমেই এই মাসকে ফলপ্রসূ করা যায়। রমযানের বরকত ও কল্যাণ পেতে হলে আগেভাগে মানসিক, আত্মিক ও আমলগত প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, রমযানের আগেই অতীতের সকল গোনাহ থেকে আন্তরিক তাওবা ও ইস্তিগফার করা প্রয়োজন। শুদ্ধ অন্তর ছাড়া রমজানের পূর্ণ ফজিলত লাভ করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে রমযানের ফজিলত, বিধান এবং রোযার মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করতে হবে, যাতে অজ্ঞতার কারণে ইবাদতে ত্রুটি না হয়। তৃতীয়ত, রমযানকে সংযম, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। চতুর্থত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ সকল ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায়ের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা জরুরি। পঞ্চমত, রোযা ভঙ্গের কারণ, মাকরূহ বিষয় ও শরিয়তের বিধানগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া আবশ্যক। ষষ্ঠত, বিগত রমযানে যেসব আমলে ঘাটতি ছিল, সেগুলোর কারণ বিশ্লেষণ করে এবার সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। সপ্তমত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, তারাবি ও নফল ইবাদত বাড়ানোর একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। অষ্টমত, ইবাদত, কাজকর্ম ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রেখে একটি দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করা উচিত। নবমত, রমযানের শেষ দশক ও শবে কদরের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সে অনুযায়ী আমলগত প্রস্তুতি নিতে হবে। দশমত, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করে নেক আমলের তাওফিক ও আত্মশুদ্ধির জন্য তাঁর সাহায্য কামনা করতে হবে। রোযার সামাজিক ও আত্মিক প্রভাব : ইসলামে রোযা কেবল উপবাস নয়; এটি ভোগ-লালসা দমন, নৈতিক শুদ্ধতা অর্জন ও আল্লাহভীতির গুণাবলি জাগ্রত করার প্রশিক্ষণ। রমযান মাস ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে একই কাতারে দাঁড় করায়। ক্ষুধা ও সংযমের অভিজ্ঞতা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, দয়া ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে। ফলে মানুষ অহংকার, ভোগ-বিলাস ও আত্মঅহমিকা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা লাভ করে। রোযা কেবল একটি ধর্মীয় বিধান নয়; এটি মানবজীবনের নৈতিক উৎকর্ষ ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার এক ঐতিহাসিক ও সার্বজনীন অনুশীলন। যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে রমজান পালন করা গেলে এই মাস আমাদের জীবনে তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য সুযোগ হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ বরকত অর্জনের তাওফিক দান করুন - আমিন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু