হাওর বাঁচাও আন্দোলনের মানববন্ধন
ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতির তদন্ত দাবি
- আপলোড সময় : ১৮-০২-২০২৬ ০৮:১২:২৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-০২-২০২৬ ০৮:১২:২৫ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও কাজে ধীরগতির অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানান কৃষকরা।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সুখেন্দু সেন ও চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আলী নূর, সাংগঠনিক স¤পাদক শহীদ নুর আহমদ, জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল, সাধারণ স¤পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, বাবুল দাস, শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু সাইদ, সাধারণ স¤পাদক নজরুল ইসলাম, হাজী আব্দুর নুর। এছাড়াও বক্তব্য দেন আনোয়ারুল হক, ইসমাইল হোসেন, নূর হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফ আলী, শওকত আলী, মুক্তার আলী ও শুকুর আলী। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদক সুরঞ্জিত গুপ্ত।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বিগত বছরগুলোর মতো এবারও অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের কাজের চাপকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনিয়ম আরও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন। অনেক অপ্রয়োজনীয় বাঁধে উৎকোচের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং নামেমাত্র কাজ স¤পন্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। বক্তারা দাবি করেন জেলায় বাঁধ নির্মাণকাজ ৩০ শতাংশ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো কোনো উপজেলায় দৃশ্যমান কাজ পরিলক্ষিত হয়নি।
তারা জানান, গত বছর বাঁধ নির্মাণে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা চলতি বছরে বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। অথচ ভরা বর্ষা না হওয়ায় জেলার অধিকাংশ বাঁধ অক্ষত ছিল। সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই মনগড়া সিদ্ধান্তে অপরিকল্পিত বাঁধে দ্বিগুণ-তিনগুণ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে বক্তারা দাবি করেন।
তারা বলেন, সুষ্ঠু কাজ না হলে এর দায়িত্ব নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।
বক্তারা আরও বলেন, সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বাঁধ নির্মাণ ও পিআইসি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে জামালগঞ্জের পাকনার হাওরের বগলার খালী এবং সদরের সিলুয়ার হাওরে ক্লোজার ও খনন কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়।
মানববন্ধন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৬৮% হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার অনেক দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ করতে বেশি ব্যয় হয়েছে। তাই বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। এছাড়া ভ্যাটও বেড়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ