সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

সুনামগঞ্জ-২ আসনে ‘দল নয় ব্যক্তি বড়’ নাছিরের জয়ে সুরঞ্জিতের ছায়া

  • আপলোড সময় : ১৬-০২-২০২৬ ০৯:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০২-২০২৬ ০৯:৩৫:১৯ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ-২ আসনে ‘দল নয় ব্যক্তি বড়’ নাছিরের জয়ে সুরঞ্জিতের ছায়া
বিশ্বজিত রায় ::
মর্যাদাপূর্ণ সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) ধানের শীষ প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন চৌধুরী। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আবারও আপসহীন রায় দিয়েছে দিরাই-শাল্লার মানুষ। তাদের ভোটে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি অ্যাড. শিশির মনির পরাজিত হয়েছেন। তিনি পরাজয় মেনে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মিষ্টিমুখও করিয়েছেন বিজয়ী প্রার্থীকে।
সচেতন ভোটাররা মনে করছেন- এই জয়-পরাজয়ে প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন ছায়াসঙ্গী হয়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পথসভা ও গণসংযোগে সুরঞ্জিতের সংগ্রাম, সংসদীয় প্রজ্ঞা ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন প্রার্থীরা। শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছাত্তার মিয়া বলেন, সুরঞ্জিতের মৃত্যুর পর সবক’টি নির্বাচনেই তাঁর অদৃশ্য ছায়া পড়েছে। এ নির্বাচনেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রভাব ছিল। নাছির চৌধুরী জনপ্রিয় নেতা হলেও সুরঞ্জিতকে ভালোবাসেন এমন ভোটাররাই তাঁর জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতিতে বহুল প্রচলিত ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’ উক্তিটি যেখানে বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে। অতীতের ন্যায় এবারের ভোটের হিসাব-নিকাশেও ‘দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়’ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ‘সুরঞ্জিতের আসন’ খ্যাত দিরাই-শাল্লা নির্বাচনী এলাকায় এবারও ভোটে ভাটাহীন ভাব জমিয়ে মুখে মুখে ফিরেছেন সাতবারের প্রয়াত এই সংসদ সদস্য। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে যাঁকে হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার মওকা পেয়েছিলেন নাছির চৌধুরী। তৎপর ভোটের রাজনীতিতে ‘ভাটির শার্দূল’ হিসেবে জনশ্রুতি পেয়েছেন তিনি। জীবনের শেষ ভোটেও সুরঞ্জিতের অদৃশ্য ছায়া পড়েছে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের উপর।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির চৌধুরীর নির্বাচনে ঘুরেফিরে এসেছে সুরঞ্জিতের নাম। গেল ৫ ফেব্রুয়ারি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুবার্ষিকীতে দীর্ঘ অসুস্থতা কাটিয়ে ফেরা নাছির চৌধুরীর সমব্যথী প্রতিক্রিয়া ভোটের মাঠে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জীবদ্দশায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুরঞ্জিতকে টেক্কা দেওয়া এই রাজনীতিক ছাত্রজীবনে সিলেটের এমসি কলেজ ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। ১৯৮৫ ও ১৯৮৯ সালে টানা দুইবার দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সুনামগঞ্জ-২ আসনে সুরঞ্জিতকে হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন নাছির চৌধুরী। তখন তাঁর ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে সুরঞ্জিত পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৪৯৬ ভোট। পরে বিএনপিতে যোগ দেন ভাটির এই নেতা। বিএনপির টিকেটে ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সুরঞ্জিতের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করা নাছির চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, দিরাই-শাল্লা আসনে সর্বদা ব্যক্তি ভাবমূর্তিই প্রাধান্য পেয়েছে। হাওরাঞ্চলে ‘জাল যার জলা তার’ আন্দোলনে সফল সুরঞ্জিত সেই ব্যক্তি। ভোটের রাজনীতিতে তুমুল জনপ্রিয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। এ আসন থেকে সাতবার নির্বাচন করেছেন তিনি। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুর পর ব্যক্তি ইমেজের একটুও ভাটা পড়েনি তাঁর। সেই সুবাদে স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। সেবার ২০০৮ সালে জয়ী সুরঞ্জিতের চেয়েও বেশি (৯৫ হাজার ৯৫৯) ভোট পেয়েছিলেন জয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এ ধারা অব্যাহত ছিল। সুরঞ্জিতের ব্যক্তি ভাবমূর্তির জোরে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আল আমিন চৌধুরীকে কাঁচি প্রতীকে পরাজিত করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়া সেন। তখন দলীয় প্রার্থীর সাথে জয়া সেনের ভোটের ব্যবধান ছিল ২৫ হাজার ১৪১ ভোটের।
রাজনীতি সচেতন মানুষের দাবি, সুরঞ্জিতের ব্যক্তি ভাবমূর্তি সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। এ নির্বাচনে নাছির চৌধুরীর বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে ঘুরেফিরে এসেছে সুরঞ্জিতের নাম।
দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের তাড়ল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুমন চৌধুরী বলেন, নন্দিত নেতা হিসেবে প্রার্থী-ভোটার সকলেই সুরঞ্জিত সেনকে স্মরণ করেছেন। সুরঞ্জিত সমর্থিত ভোটার যারা আছেন, তাদের বেশির ভাগ ভোট নাছির চৌধুরীর বাক্সেই পড়েছে। বিজয়ের ক্ষেত্রে সেই ভোট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। 
​​​​​​
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট। নাছির চৌধুরী ৩৬ হাজার ৩০২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনের ১১১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৫৪ দশমিক ৭৩ ভাগ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স