সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

  • আপলোড সময় : ১২-০২-২০২৬ ০৯:১০:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০২-২০২৬ ০৯:১০:১০ পূর্বাহ্ন
এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: নির্বাচন ও নির্বাচনপরবর্তী সময়ে নিজেদের অবস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বৃহ¯পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর তারা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী তিনি। এছাড়া ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি এ দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানান তারেক রহমান। এ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।’ এ ছাড়া ১৭ বছর পর দেশে ফেরে কেমন চ্যালেঞ্জ ফেস করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এত বছর পর এসেছি, আসার পর মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয়। একদিকে নির্বাচনি ডামাডোল, অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিষয়- দুটির সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য দলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিষয় রাখা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, আমাদের ইশতেহারে সমাজের তরুণদের জন্য, বয়স্কদের জন্য, দেশের ৪০ লাখ প্রতিবন্ধীদের জন্য, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি, কর্মসূচি রেখেছি। বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সবার জন্য এই পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যে কোনো দেশের সাথেই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করবেন কিনা- এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। কারণ কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয়, অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে? দেশের মোট ভোটারের অর্ধেকই নারী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও নারীদের অবদান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারীদের নিয়ে বিএনপির ভাবনা কি? এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্লাশ ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এটি হচ্ছে নারীসমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ। অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলেন, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এ শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাশ পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব। এছাড়া দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফের জন্য, বিশেষ করে প্রথমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা ও স্বাবলম্বী করার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের বিস্তারিত বর্ণনাও দেন তারেক রহমান। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও দলটি নিষিদ্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে। আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ আগস্ট যার উদাহরণ। দলের প্রার্থীদের ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ এবং বিএনপির ইশতেহারে দুর্নীতি দমনের উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, দেখুন দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস। আমাদের দলের লক্ষ নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার মামলা দিয়েছিল। আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আছে, যারা ব্যবসাবাণিজ্য করে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসাবাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি। তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদের দেওয়া হয়নি। কাজেই এ রকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোক, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ব্যবসাবাণিজ্য করতেন, তাদের জন্য তো এ রকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্নীতি এবং ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে স¤পর্ক তো নেই। দুটো একদম ভিন্ন জিনিস। ১৫-১৬ বছরে গুম-খুনের বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে সহায়তার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা যে রকম গুম-খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যারা আমাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, তারা গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এমনকি অনেক মানুষ আছেন, যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না, কিন্তু তারা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে, কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না- এটি তো হতে পারে না। কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স