সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
সুনামগঞ্জ-৫

সুবিধাজনক অবস্থানে কলিম উদ্দিন মিলন

  • আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন
সুবিধাজনক অবস্থানে কলিম উদ্দিন মিলন
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি। এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তবে এবারের নির্বাচনে সেই ঘাঁটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের মূল লড়াইটি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাস্তব ভোটের সমীকরণে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণাও চোখে পড়ার মতো। তবে সামগ্রিক রাজনৈতিক শক্তিমত্তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতায় বিএনপি এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক এবং সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী মিজানুর রহমান চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এই আসনে বিএনপির অবস্থান আরও সুসংহত হয়। ফলে মিলনই এখন বিএনপির একক ও মূল প্রার্থী। স্থানীয়ভাবে অনেকেই মন্তব্য করছেন, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সততা, ব্যক্তিগত বিনয় ও মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণের কারণে তিনি সর্বস্তরের মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর যে নজির তিনি রেখেছেন, তা ভোটারদের মন জয় করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিলন সব সময় মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে উদ্যোগী হন। তরুণ, প্রবীণ, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী - সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তার সহজ যোগাযোগ তাকে একজন জনপ্রিয় জননেতায় পরিণত করেছে। সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুর রহমান সামছু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এজে লিমন, ছাতক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাকী বিল্লাহ, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা একেএম রিপন তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা তরুণ ব্যারিস্টার আব্দুর রকিবসহ একাধিক নেতাকর্মী বলেন, ধানের শীষ শান্তি, উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ছাতক-দোয়ারাবাজারের মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে আস্থা রেখেই কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের মাধ্যমে মন্ত্রীত্বের স্বপ্ন দেখছেন। ইনশাআল্লাহ, এ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত। প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনও বিজয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি নির্বাচিত হলে ছাতকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি সিলেট মহানগর জামায়াতের সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। দলটির দাবি, শেষ মুহূর্তে নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাদের প্রচারণা উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার বলেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা ও হুমকির ঘটনা দুঃখজনক। জনগণ নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল প্রচারণা এবং নারীদের নিভৃত কার্যক্রম তাদের একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে নিয়ে গেছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ধানের শীষ ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। আমরা সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন - খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) এবং এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম)। তারা নিজ নিজ ভোটব্যাংক ধরে রাখতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের ভোটারদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগপন্থী একাধিক নেতা-কর্মী জানান, তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিপক্ষে অবস্থান নেবেন এবং কেউ কেউ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৫,২৭,৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৭০,৬২০ জন, নারী ভোটার ২,৫৬,৮৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৭০টি। এখন সবার দৃষ্টি ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে - শেষ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ-৫ আসনে জয়ের মুকুট কার মাথায় উঠবে, ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লা?

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স