সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ , ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বরণ করতে প্রস্তুত দিরাইবাসী বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার, ভিকটিম উদ্ধার অপ্রয়োজনীয় শতাধিক প্রকল্পে অন্তত ২০ কোটি টাকার অপচয় হাওরে স্বস্তির বৃষ্টি, খুশি কৃষক খন্দকার ও মিজান ইটভাটাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা জেলা জামায়াতের ইফতার মাহফিলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-প্রয়োজনে আরও একটা জুলাই সংঘটিত হবে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির আলোচনা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন দুই দিনের কর্মশালায় কী শিখলেন বিএনপির এমপিরা? জ্বালানি সাশ্রয়ে স্বাধীনতা দিবসে থাকছে না আলোকসজ্জা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‎সাচনাবাজার মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদ হত্যায় স্ত্রী ও শ্যালিকা গ্রেফতার গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পেলেন খালেদা জিয়া রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীর সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি মাদক কারবারি রিংকু গ্রেফতার দেড় বছর ধরে বন্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ছুটির দিনেও অফিসে প্রধানমন্ত্রী, করলেন দুই বৈঠক দিরাইয়ে জলমহাল দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০ দিরাইয়ে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

টাঙ্গুয়ার হাওরে মাটি কাটার দুঃসাহস : জরিমানাই কি যথেষ্ট?

  • আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গুয়ার হাওরে মাটি কাটার দুঃসাহস : জরিমানাই কি যথেষ্ট?
টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, গোটা দেশের একটি অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই রামসার সাইট ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে। সর্বশেষ তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের হিজল-করচবাগ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কর্তনের ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো- আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকৃতি ধ্বংসের প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে হাওরের ভেতর থেকে মাটি কর্তন শুধু বেআইনি নয়, এটি সরাসরি পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর আঘাত। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই কাজে জড়িত ছিলেন ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি নিজেই। যার দায়িত্ব ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করা, তিনিই যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে তদারকির ঘাটতি কোথায় - সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে অবৈধভাবে কাটা মাটি পুনঃস্থাপনের নির্দেশ পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়- এই জরিমানা কি ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঠেকাতে যথেষ্ট হবে? নাকি এটি কেবল নিয়মরক্ষার একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে থাকবে? বাস্তবতা হলো, টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় মাটি কর্তন, গাছ নিধন, অবৈধ স্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন - সবকিছু মিলেই হাওরের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। পিআইসি গঠনের সময় স্বচ্ছতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে এই ধরনের অপকর্ম বারবার ঘটতেই থাকবে। আমাদের স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে- টাঙ্গুয়ার হাওর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার জায়গা নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। তাই শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজন হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পিআইসি বাতিল, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং নিয়মিত পরিবেশগত নজরদারি জোরদার করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান প্রমাণ করে, চাইলে আইন প্রয়োগ সম্ভব। এখন দরকার ধারাবাহিকতা ও কঠোরতা। পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে কোনো আপস নয় - এই বার্তাটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করাই আজ সময়ের দাবি। আমাদের মনে রাখতে হবে, টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, বাঁচবে মানুষ। আর সেই দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ