জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট
জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
স্টাফ রিপোর্টার ::
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী মাঠে তৎপর হয়েছে।
এদিকে, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনের ৭২০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্গম ও দূরত্ব অনুযায়ী অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুর্গম এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেয়া হবে বাড়তি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি। বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র নজরদারি করবে পুলিশ। এছাড়াও নির্বাচনী পরিবেশে সুষ্ঠু ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কাজ করবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসারসহ গোয়েন্দা সংস্থা।
জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও ভোটের কার্যক্রম নজরদারি করতে জেলার দুর্গম ৪৫১টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইতোমধ্যে জেলার দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার ১২টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুটি বীর ব্যাটালিয়ন এবং একটি ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের সহ¯্রাধিক সদস্য মোতায়েন থাকবেন। জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিজিবি’র দুটি করে প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। প্রতি প্লাটুনে সাধারণত ২০-৩০ জন সদস্য থাকবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এ সংখ্যা কিছুটা কমবেশি হতে পারে। এছাড়া নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ কাজ করবে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য ৩ হাজার ৫০০ জন, আনসার ও ভিডিপি ১২ হাজার, গ্রাম পুলিশ ১ হাজার ২০০ জন কাজ করবেন। পাশাপাশি র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিকভাবে ভোট কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় টহলে নিয়োজিত থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও মোবাইল টিমের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানাযায়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রথম স্তরে ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রের বাইরে ভ্রাম্যমাণ ভিত্তিতে টহল ও তদারকির জন্য পুলিশের মোবাইল টিম থাকবে। তৃতীয় স্তরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ভোটের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যাতায়াতের দূরত্ব অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। যাতে দায়িত্বশীলরা এক স্থানে বসে মনিটরিং করতে পারেন এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য আমাদের শক্ত অবস্থান আছে। কোথাও কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
