সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

  • আপলোড সময় : ০৬-০২-২০২৬ ১২:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০২-২০২৬ ১২:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত ১৭ মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদন আমাদের সামনে এক গভীর উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে সংস্কার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং রাজনৈতিক সহিংসতা, মব হামলা, সাংবাদিক নিপীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্তে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১৭ মাসে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতায় ১ হাজার ৪১১টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। এটি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় এবং আইনের শাসনের ভঙ্গুরতার প্রতিফলন। বিশেষ করে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও মামলার নামে ব্যাপক গ্রেফতার রাজনৈতিক সহনশীলতার চরম অভাবকেই নির্দেশ করে। আরও উদ্বেগজনক হলো মব সহিংসতার উত্থান। চুরি, ধর্মীয় অবমাননা বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণপিটুনিতে ২৫৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সামাজিক অস্থিরতাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির চিত্রও ভয়াবহ। ৪২৭টি ঘটনায় ৮ শতাধিক সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে গণতন্ত্র কেবল কাগুজে শব্দে পরিণত হয়। সাইবার আইন ও বিধিনিষেধের অপপ্রয়োগ ভিন্নমত দমনের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে - যা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়। ১৭ মাসে ১০১৬ জন ধর্ষণের শিকার, যার অর্ধেকের বেশি শিশু - এটি কেবল সামাজিক ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। শিশুর মৃত্যু ও নির্যাতনের সংখ্যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। সীমান্তে হত্যা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো প্রমাণ করে - মানবাধিকার সংকট কোনো একক খাতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বহুমাত্রিক ও গভীর। এই প্রেক্ষাপটে এইচআরএসএস যে সুপারিশ করেছে- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ - তা কেবল সুপারিশ নয়, বরং সময়ের দাবি। রাষ্ট্র যদি এই সংকেত উপেক্ষা করে, তবে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি অনিবার্য। মানবাধিকার রক্ষা কোনো পক্ষপাতদুষ্ট ইস্যু নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইতিহাস রাষ্ট্রের এই নীরবতাকে ক্ষমা করবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স