সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

  • আপলোড সময় : ০৬-০২-২০২৬ ১২:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০২-২০২৬ ১২:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত ১৭ মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদন আমাদের সামনে এক গভীর উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে সংস্কার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং রাজনৈতিক সহিংসতা, মব হামলা, সাংবাদিক নিপীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্তে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১৭ মাসে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতায় ১ হাজার ৪১১টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। এটি কেবল সংখ্যার হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় এবং আইনের শাসনের ভঙ্গুরতার প্রতিফলন। বিশেষ করে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও মামলার নামে ব্যাপক গ্রেফতার রাজনৈতিক সহনশীলতার চরম অভাবকেই নির্দেশ করে। আরও উদ্বেগজনক হলো মব সহিংসতার উত্থান। চুরি, ধর্মীয় অবমাননা বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণপিটুনিতে ২৫৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা সামাজিক অস্থিরতাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির চিত্রও ভয়াবহ। ৪২৭টি ঘটনায় ৮ শতাধিক সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে গণতন্ত্র কেবল কাগুজে শব্দে পরিণত হয়। সাইবার আইন ও বিধিনিষেধের অপপ্রয়োগ ভিন্নমত দমনের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে - যা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়। ১৭ মাসে ১০১৬ জন ধর্ষণের শিকার, যার অর্ধেকের বেশি শিশু - এটি কেবল সামাজিক ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা। শিশুর মৃত্যু ও নির্যাতনের সংখ্যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে। সীমান্তে হত্যা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো প্রমাণ করে - মানবাধিকার সংকট কোনো একক খাতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বহুমাত্রিক ও গভীর। এই প্রেক্ষাপটে এইচআরএসএস যে সুপারিশ করেছে- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ - তা কেবল সুপারিশ নয়, বরং সময়ের দাবি। রাষ্ট্র যদি এই সংকেত উপেক্ষা করে, তবে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি অনিবার্য। মানবাধিকার রক্ষা কোনো পক্ষপাতদুষ্ট ইস্যু নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ইতিহাস রাষ্ট্রের এই নীরবতাকে ক্ষমা করবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স