তাহিরপুরে অনিবন্ধিত কিন্ডারগার্টেন থেকে ১৪ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ : জামায়াতি প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে বিএনপি’র অভিযোগ
- আপলোড সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০৯:১১:২৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০৯:১১:২৬ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ-১ আসনের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিশেষ করে অনিবন্ধিত কিন্ডারগার্টেন থেকে ১৪ জন শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। প্রতিষ্ঠানটি জামায়াতঘেঁষা বলেও মন্তব্য করেন তারা। আইডিয়াল ভিশন নামের ওই কিন্ডারগার্টেন থেকে ১৪ জন শিক্ষককে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবার।
তাহিরপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে ধানের শীষ প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নির্বাচনে সরকারি বা আধা-সরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু তাহিরপুরে সরকারি স্কুলের অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকার পরও ব্যতিক্রম করে একটি কিন্ডারগার্টেন থেকে ১৪ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইডিয়াল ভিশন একাডেমি প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কিন্ডারগার্টেনটি জামায়াতে ইসলামী দলের এক স্থানীয় নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ও প্রতিষ্ঠিত বলেও স্থানীয়রা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহিরপুরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, তাহিরপুরে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন। জনবল সংকট থাকলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও লোক নেওয়া যেত। তিনি আরও বলেন, ওই কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নন এবং অনেকেই গ্র্যাজুয়েশন স¤পন্ন করেননি। এমন একটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া রহস্যজনক।
বাদাঘাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক স¤পাদক আমিন হুদা বলেন, এলাকার মানুষ ও প্রশাসন সবাই জানে এটি জামায়াতের প্রতিষ্ঠান। এমন একটি নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচনের জন্য লোক নিয়োগ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি একটি ষড়যন্ত্র। আমরা তাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ লোক নিয়োগের দাবি জানাই।
তাহিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির রুকন উদ্দিন বলেন, প্রশাসন নির্বাচন পরিচালনার জন্য লোক নিয়োগ করেছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা চাই নির্বাচন সুষ্ঠু হোক।
এ বিষয়ে ধানের শীষ প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট জুনাব আলী আরো বলেন, তাহিরপুরে অনেক সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও একটি অনিবন্ধিত ও বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জন শিক্ষককে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক। প্রতিষ্ঠানটি জামায়াতের লোকের হিসেবে সবাই জানে। শত শত সরকারি স্কুলের শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ওই প্রতিষ্ঠান থেকে লোক নিয়োগ আমাদেরকে ভাবাচ্ছে। তাই আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকাটি উপজেলা নির্বাচন অফিস অনেক আগেই প্রস্তুত করেছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ