সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পর্যটকে মুখর শিমুল বাগান প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত যুবদল নেতাসহ ৪ জন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠান শুরু হলো ভাষার মাস অর্থ সংকটে বাঁধের কাজে ধীরগতি জামায়াত প্রার্থীর প্রচার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ টেংরাটিলা গ্যাস ক্ষেত্রে বিস্ফোরণ : নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করল আন্তর্জাতিক আদালত আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র করছে, সতর্ক থাকতে হবে : তারেক রহমান সংখ্যালঘুরা শঙ্কায়, ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে : হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় শতাধিক কৃষক পরিবার ছাতকের সাবেক মেয়র কালাম চৌধুরী গ্রেপ্তার হাওরে মাটি সংকট, বিপাকে পিআইসি ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে পিছিয়ে পড়ছে বাঁধের কাজ একটি দলের আমির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন : বিএনপি জেলায় মোতায়েন হচ্ছে ২৪ প্লাটুন বিজিবি ‘অযোগ্য’ পিআইসি বাতিলের দাবি হ্যাঁ বা না ভোট দেওয়া ভোটারদের ব্যক্তি স্বাধীনতা : জেলা প্রশাসক জগন্নাথপুরে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে সড়ক, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন পৃথিবীতে জালিয়াতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ : প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি প্রার্থীদের জন্য অশনিসংকেত বিদ্রোহীরা একটি দল স্বৈরাচার দলটির মতো ভাষা ব্যবহার করছে : তারেক রহমান

প্রচারণার মাঠে সহিংসতা : গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত

  • আপলোড সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৯:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৯:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন
প্রচারণার মাঠে সহিংসতা : গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তাপ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা গণতন্ত্রের জন্য মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়। নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর পর থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ শেরপুরে নির্বাচনি সহিংসতায় এক রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এর ফলে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ভয়, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা - যা একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে বড় বাধা। নির্বাচন মানেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ প্রচারণা এবং জনগণের সামনে কর্মসূচি তুলে ধরার সুযোগ। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি তার বিপরীত চিত্র। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ও কঠোর ভাষার ব্যবহার নির্বাচনের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। শেরপুরের ঘটনার পর শিক্ষার্থী বিক্ষোভ, দলীয় কর্মসূচি ও প্রশাসনিক প্রত্যাহার পরিস্থিতির গভীরতাই নির্দেশ করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- সহিংসতার দায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। একদিকে হত্যাকা-ের অভিযোগ, অন্যদিকে পাল্টা বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি ‘আমরা বনাম তারা’ মানসিকতা আরও দৃঢ় হয়, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেরপুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার একটি বার্তা দেয়- দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তবে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান উদ্যোগ। সহিংসতার ঘটনায় দোষী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে সহিংসতা থামবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কঠোর বক্তব্য, হুমকি কিংবা উত্তেজনাকর ভাষা সাময়িকভাবে কর্মীদের উজ্জীবিত করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। নির্বাচন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয় - এটি জনগণের মত প্রকাশের উৎসব। সেই উৎসব যদি রক্তাক্ত হয়, তাহলে বিজয়ী কেউই থাকে না। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভোটকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার আশ্বাস দিয়েছে। এই আশ্বাস বাস্তবে রূপ দিতে হলে এখনই কঠোর প্রস্তুতি, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা একটাই-ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ। এই মুহূর্তে সহিংসতা বন্ধ করা শুধু প্রশাসনের নয়, সব রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত দায়িত্ব। অন্যথায়, প্রচারণার মাঠে যে রক্ত ঝরছে, তা কেবল একটি নির্বাচনের নয়, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
শুরু হলো ভাষার মাস

শুরু হলো ভাষার মাস