মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ ::
ঋতুরাজ বসন্ত এখনও পুরোপুরি আসেনি, শিমুল ফুলও ফোটেনি, তবুও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম শিমুল বাগান- ‘আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান’। তবে আর বেশি দিন অপেক্ষা নয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী সপ্তাহ থেকেই শিমুল ফুল পুরোদমে ফুটতে শুরু করবে। হাওর ও পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মানিগাঁও (ইলামপুর) এলাকায় অবস্থিত এই বাগানে শাখায় শাখায় ফুটবে রক্তরাঙা শিমুল ফুল। পুরোদমে শিমুল ফুটলে দূর থেকে তাকালে মনে হবে- ঘন সবুজের মাঝে যেন আগুন জ্বলছে, কিংবা কোনো অগ্নিগিরি দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফাগুনে এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকের ঢল নামে এই বাগানে। সাধারণত মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শিমুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বসন্ত না এলেও, শিমুল ফুল না ফুটলেও গত শুক্রবার সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, শত শত প্রকৃতিপ্রেমীর পদচারণায় মুখরিত আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান। এ সময় কথা হয় সিলেটের ই¤েপরিয়াল হাসপাতালের নার্স রহিমা জান্নাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৫০ জন এসেছি একটি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে। আসার পথে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কিছুটা বিরক্তি ও ক্লান্তি লেগেছিল। কিন্তু এখানে এসে বাগান দেখার পর সব ক্লান্তি যেন উধাও হয়ে গেছে। আবার আসার চেষ্টা করব। সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে। আরেক দর্শনার্থী স¤পা রায় বলেন, এই বাগান থেকেই দেখা যায় পাশের ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সুউচ্চ খাসিয়া পাহাড়, তার পাশেই রূপের নদী যাদুকাটা ও বিস্তীর্ণ বালুভূমি। অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কেউ নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবে না যে, হাওরের এই উপজেলায় এত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। যাতায়াত ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত আরও উন্নয়ন হলে এখানে পর্যটকের সংখ্যা অনেক গুণ বেড়ে যেত। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা ও রূপের নদী যাদুকাটার তীরে অবস্থিত বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মানিগাঁও (ইলামপুর) এলাকায় ২০০২ সালে শখের বসে প্রায় ৩৩ একর বালুকাভূমি ক্রয় করেন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, বৃক্ষপ্রেমী ও শিক্ষানুরাগী প্রয়াত আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন। সেখানে তিনি প্রায় আড়াই হাজার শিমুল গাছ ও এক হাজারের মতো লেবু গাছ রোপণ করেন। সে সময় অনেকেই বলাবলি করতেন- এই বালুতে গাছ কীভাবে টিকে থাকবে? কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে নিজের তত্ত্বাবধানে নিরলস পরিশ্রমে গাছগুলোর পরিচর্যা করে তিনি বাগানটিকে সফলভাবে গড়ে তোলেন। তার হাতে গড়া এই শিমুল বাগান যে আজ এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগানে পরিণত হয়েছে এবং হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমীর আকর্ষণকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে, তবে দুর্ভাগ্য তা তিনি দেখে যেতে পারেননি। বর্তমানে বাগানটির দেখভাল করছেন তার সন্তানরা। প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের ছেলে, বাদাঘাট ইউনিয়ন ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, পর্যটকদের কথা বিবেচনায় রেখে বাগানের চারপাশে কাঁটাতারের বাউন্ডারি, ওয়াশরুম, চেঞ্জিং রুম এবং একটি ক্যান্টিন স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও উন্নয়ন কাজ করা হবে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেমের উদ্যোগে বাগানে আগত পর্যটকদের বসার জন্য আধুনিক বেঞ্চ, শিশুদের খেলাধুলার জন্য দোলনা, একটি আধুনিক রেস্ট হাউস ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পর্যটকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
পর্যটকে মুখর শিমুল বাগান
- আপলোড সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৯:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০২-২০২৬ ০৯:৫১:৫৮ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ