সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

অবলা প্রাণীর ওপর নির্মমতা কোনোভাবেই সভ্যতার পরিচয় হতে পারে না

  • আপলোড সময় : ২৮-০১-২০২৬ ০৮:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০১-২০২৬ ০৮:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
অবলা প্রাণীর ওপর নির্মমতা কোনোভাবেই সভ্যতার পরিচয় হতে পারে না
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর গুচ্ছগ্রামে আলুক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগে একটি ঘোড়াকে ফাঁস লাগিয়ে হত্যার ঘটনা আমাদের সমাজের মানবিক অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। যে সমাজ নিজেকে সভ্য বলে দাবি করে, সেই সমাজে অবলা প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জমির ক্ষতি হয়েছে - এই অভিযোগ সত্য হলেও তার প্রতিকার কখনোই প্রাণহত্যা হতে পারে না। ঘোড়াটি কোনো অপরাধী নয়; সে একটি নিরীহ প্রাণী, যার মাধ্যমে তার মালিক আইয়ূব আলী জীবিকা নির্বাহ করতেন। মানুষের মালামাল বহনের কাজে ব্যবহৃত এই ঘোড়াটি শুধু একটি প্রাণই নয়, ছিল একটি পরিবারের আয়ের উৎস। সেই ঘোড়াকে হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে ফাঁস দেওয়া নিছক অপরাধ নয়, এটি এক ধরনের নির্মমতা, যা মানুষের নৈতিকতার গভীর সংকট নির্দেশ করে। আইনের চোখে পশু নির্যাতন ও হত্যা দ-নীয় অপরাধ। ‘আলুক্ষেত নষ্ট’ হওয়ার অভিযোগ থাকলে তার জন্য আইনি পথ খোলা ছিল- ক্ষতিপূরণ দাবি, স্থানীয়ভাবে মীমাংসা কিংবা প্রশাসনের শরণাপন্ন হওয়া। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন নৃশংস কাজ করা সমাজে ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আজ একটি ঘোড়া, কাল হয়তো মানুষ - এই প্রশ্ন আমাদের ভাবিয়ে তোলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু আটক করাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। যাতে ভবিষ্যতে কেউ পশু বা মানুষের ওপর এমন পাশবিক আচরণ করার সাহস না পায়। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব রয়েছে- গ্রামাঞ্চলে পশুস¤পদ সংরক্ষণ, কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। পশু নির্যাতন রোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না হলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে। একটি সভ্য সমাজের মাপকাঠি হলো দুর্বল ও নিরীহের প্রতি তার আচরণ। অবলা প্রাণীর ওপর নির্মমতা কোনোভাবেই সভ্যতার পরিচয় হতে পারে না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি- মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হবে, তবেই এমন নিষ্ঠুরতার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স