মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) নির্বাচনী এলাকাটি ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনের ভোটের লড়াই এখন পর্যন্ত বিএনপিই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, তবে শেষমেষ এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে। এ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের জন্য উন্মুক্ত থাকায় এখানে ভোটের ভাগ বসিয়েছে ওই জোটের অন্যতম শরীক খেলাফত মজলিসও। এখানে খেলাফত মজলিস কওমী ঘরানারই একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এত স্বত্তেও কওমী ঘরানার দলগুলোকে ভিন্ন মাত্রার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই নিজেদের ‘মূল প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ১১ দলীয় জোটের জন্য আসনটি উন্মুক্ত থাকায় জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিস - উভয় দলের প্রার্থীই ভোটের মাঠে সরব। তবে সাংগঠনিক শক্তি, তৃণমূল পর্যায়ের বিস্তৃতি ও সক্রিয় ভোট ব্যাংকের বিচারে জামায়াত খেলাফত মজলিসের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তবে কওমী ঘরানার অন্যান্য দলগুলোর ভোট ব্যাংক খেলাফতের দিকে ঝুঁকলে দেয়াল ঘড়ি প্রতীককে নিছক ছোট দল মনে করাটাও সমীচীন হবে না জামায়াতের - এমন ধারণা অনেকের। এদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক স¤পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বর্তমানে এ আসনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। শেষ মুহূর্তে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় দলটির অভ্যন্তরীণ ভোট বিভক্তির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে বিএনপি এখন একক ও শক্তিশালী প্রার্থী নিয়ে মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই বিএনপির সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের কৌশল নিয়েছে। দলটির প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানি (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) সাংগঠনিক কাঠামো, সক্রিয় কর্মীবাহিনী ও দীর্ঘদিনের ভোট ব্যাংকের ওপর ভর করে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে জামায়াতে ভোট ব্যাংক শক্তিশালী করতে তারা নানা কৌশলী পথে হাঁটছে। জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, খেলাফত মজলিস কিংবা অন্যান্য কওমী ঘরানার দলগুলো তাদের জন্য বড় কোনো ফ্যাক্টর নয়; প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির সঙ্গেই। এদিকে ১১ দলীয় জোটের আরেক শরীক খেলাফত মজলিসও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। দলটির প্রার্থী হাফিজ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি প্রতীক) কওমী ঘরানার ভোট একত্রিত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কওমী ভোট একীভূত করা গেলে খেলাফত মজলিস এই আসনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- কওমী ঘরানার অন্যতম দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীরের দল) জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও এ আসনে তাদের কোনো প্রার্থী নেই। ফলে তাদের ভোট ব্যাংকের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের দিকেই ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইভাবে মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা সাদিক সালীম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় তার সমর্থকদের ভোটও দেয়াল ঘড়ির দিকেই যেতে পারে বলে অনেকের অনুমান। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) ও এনপিপি নেতা মো. আজিজুল হক (আম প্রতীক) নির্বাচনী মাঠে থাকলেও তারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে কঠোর লড়াই করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাস্তবতায় তাদের ভোট ব্যাংক ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে - এমন সম্ভাবনা কম। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তাদের মতে, কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। অপরদিকে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিএনপির সঙ্গেই তাদের মূল লড়াই চলছে এবং শেষ পর্যন্ত তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা বিজয়ী হবেন। খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা মনে করেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের পক্ষে জনমত তৈরি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের প্রার্থী নিয়ে আশাবাদী। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচন এখন স্পষ্টভাবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার শক্তি পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে। তবে কওমী ঘরানার বিচ্ছিন্ন ভোটগুলো এক বাক্সে আনতে পারলে জামায়াতের চ্যালেঞ্জ অনকটাই দুর্বল হতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সুনামগঞ্জ-৫ আসন
বিএনপি’র সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে মরিয়া জামায়াত
- আপলোড সময় : ২৭-০১-২০২৬ ০৯:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-০১-২০২৬ ০৯:২১:৩৭ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি