সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

খরচার হাওরে খাল শুকিয়ে মাছ লুট বন্ধ করুন

  • আপলোড সময় : ২৬-০১-২০২৬ ০৯:৫১:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০১-২০২৬ ০৯:৫১:৪৫ পূর্বাহ্ন
খরচার হাওরে খাল শুকিয়ে মাছ লুট বন্ধ করুন
সুনামগঞ্জের খরচার হাওরে যা ঘটছে, তা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয় - এটি আমাদের হাওর ব্যবস্থাপনা, কৃষি সুরক্ষা ও প্রশাসনিক নজরদারির বড় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। বোরো মৌসুমের শুরুতেই সেচের পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে পড়ছে ফসলি জমি, আর সেই পানিই রাতের আঁধারে অবৈধভাবে শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে মাছ লুটের উদ্দেশ্যে। এটি সরাসরি কৃষকের জীবিকা, খাদ্য উৎপাদন এবং হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। খরচার হাওর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বোরো ফসলের অন্যতম ভা-ার। প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ নির্ভর করে খরচার খালের ওপর। বছরের পর বছর ধরে এই খাল বৈধ ইজারার আওতায় নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসলেও চলতি মৌসুমে একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র জোরপূর্বক খাল দখল করে সেচ পা¤প বসিয়ে পানি অপসারণ করছে। ফলে একদিকে মাছ লুট হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকের সেচের একমাত্র প্রাকৃতিক উৎস ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু অবৈধ মাছ আহরণের ঘটনা নয়; এটি পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সেচ সংকট সৃষ্টি করার শামিল। অসময়ে খাল শুকিয়ে ফেলায় শত শত বিঘা জমি আজ পানিশূন্য। কৃষকেরা যেখানে বোরো আবাদ নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে রাতের আঁধারে শত শত লোকের অংশগ্রহণে খাল শুকিয়ে ফেলা এক ধরনের হাওর সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকা- দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি - যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হাওর শুধু মাছ ধরার জায়গা নয়; এটি একটি সংবেদনশীল প্রাকৃতিক ও কৃষি প্রতিবেশ। এখানে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে ফসল, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। কয়েকজনের লোভের কারণে যদি হাজারো কৃষকের ফসল হুমকির মুখে পড়ে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জেলা প্রশাসক খাল শুকানো বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন, এটি আশাব্যঞ্জক। তবে অভিজ্ঞতা বলে, শুধু নির্দেশনা নয়, চাই দ্রুত মাঠপর্যায়ের কার্যকর অভিযান, অবৈধ সেচ পা¤প জব্দ, জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি। একই সঙ্গে হাওর এলাকার পানি ব্যবস্থাপনায় কৃষক, মৎস্যজীবী ও প্রশাসনের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষক বাঁচাতে হলে হাওর বাঁচাতে হবে। খাল শুকিয়ে মাছ লুটের মতো অপরাধকে কোনোভাবেই ‘স্থানীয় বিষয়’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ - যার দায় এড়াতে পারবে না কেউই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স